ডিভোর্সে জালিয়াতি ও ব্যভিচার রোধে ক্রিকেটার নাসির-তামিমার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’-এর মানববন্ধনসমাজে বৈবাহিক পবিত্রতা রক্ষা, ডিভোর্সে জালিয়াতি বন্ধ এবং পরকীয়া ও ব্যভিচার রোধে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও প্রতারক তামিমা সুলতানার চূড়ান্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করে পুরুষ অধিকার নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’।
৮ জুন, (সোমবার) সকাল ১১:০০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনটি সঞ্চালনায় ছিলেন কোষাধক্ষ আল আমিন হোসেইন। উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম, প্রচার সম্পাদক খালেদ তন্ময়, ঢাকা জেলা কমিটির সহ- সভাপতি ইফতেখার হোসেইন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত, সোনারগাও উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক মহিউদ্দিন খোকন এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক এবং দেশের বিভিন্ন স্তরের ভুক্তভোগী সহ শতাধিক সাধারণ মানুষ।
উক্ত মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম বলেন, আজ আমরা এখানে এক বুক ক্ষোভ আর ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত অসংখ্য প্রবাসী ভাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করছেন যে, তারা দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দেশে টাকা পাঠান, আর সেই সুযোগে কিছু অসাধু নারী আইনি ডিভোর্স না দিয়েই অন্য পুরুষের সাথে পরকীয়ায় মেতে উঠছেন এবং সংসার ভাঙছেন।
এই জঘন্য অপরাধের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা এবং আমাদের আইনি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। প্রচলিত ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত নারী ব্যভিচার বা পরকীয়া করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা যায় না, অথচ পুরুষকে ঠিকই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। এটি পুরুষদের প্রতি স্পষ্ট আইনি বৈষম্য! শুধু তাই নয়, অপরাধী নারী হলে ‘নারী বিবেচনা’য় জামিন দেওয়া, হাতকড়া না পরানো কিংবা কঠিন অপরাধেও লঘু শাস্তি দেওয়ার একটি প্রবণতা আমরা দেখতে পাই। আইনের এই শিথিলতা ও বৈষম্যের সুযোগ নিয়েই আজ কিছু স্বেচ্ছাচারী নারী চরম অপরাধে জড়ানোর সাহস পাচ্ছে। রাষ্ট্র এবং বিজ্ঞ আদালতের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি—আইন সবার জন্য সমান হতে হবে। অপরাধী নারী হোক বা পুরুষ, অপরাধের বিচার সমান হতে হবে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ—বহুল আলোচিত নাসির এবং তামিমার মামলা। পিবিআই (PBI) তদন্ত রিপোর্টে পরিষ্কার প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা দুজনেই ব্যভিচার এবং ডিভোর্স জালিয়াতির মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত। আমরা জোরালো দাবি জানাচ্ছি, নাসির এবং তামিমাকে কঠিনতম শাস্তি দিয়ে রাষ্ট্র দেশে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করুক। এই একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচারই পারবে সমাজ থেকে এই ব্যাধি দূর করতে এবং প্রবাসে ও দেশে থাকা হাজারো ভুক্তভোগী পুরুষকে আদালতে এসে ন্যায়বিচার চাওয়ার সাহস জোগাতে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক, পুরুষ ও প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা হোক। ঢাকা জেলা কমিটির সহ- সভাপতি ইফতেখার হোসেইন বলেন, প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা: দেশের বাইরে থাকা হাজারো প্রবাসী কঠোর পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠান। কিন্তু আইনি ডিভোর্স না দিয়েই কিছু অসাধু নারীর পরকীয়া ও জালিয়াতির কারণে অসংখ্য প্রবাসীর সংসার ভাঙছে। আইনের শিথিলতার কারণে ভুক্তভোগীরা বিচার পাচ্ছেন না।
দপ্তর সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত বলেন, নাসির ও তামিমার আইনজীবী ইতিমধ্যেই দাবি করছেন যে আসামিরা খালাস পাবেন। এধরনের সুস্পষ্ট ও প্রমাণিত অপরাধ করেও আসামীদের খালাস পেয়ে যাবার আশংকা সাধারন নাগরিকদের মধ্যেও রয়েছে। রায়ের আগেই এমন মন্তব্য প্রমাণ করে যে, সমাজে নারীদের অপরাধে লঘু শাস্তি দেওয়া বা মুক্তি দেওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, এক্ষেত্রেও আসামী পক্ষ তার সুবিধা নেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে বসে আছে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, পুরুষ ও প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে লিঙ্গ বৈষম্যমুক্ত আইন ও বিচার ব্যবাস্থার লক্ষ্যে এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন দেশের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।