বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট যতই ঘনিয়ে আসছে, বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনা ও উত্তেজনা ততই তুঙ্গে উঠছে। তবে এর মাঝেই ব্রাজিল শিবিরে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা এবং প্রাণভ্রমরা নেইমার। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে প্রস্তুতি ম্যাচে পানামা ও মিসরের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড। মূলত মাংসপেশীর মারাত্মক চোট বা ইনজুরি বেশ ভালোভাবেই ভোগাচ্ছিল তাকে। দলের মূল চালিকাশক্তিকে নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা আর শঙ্কার মেঘ দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছিল, ঠিক তখনই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ভক্তদের জন্য এলো এক পরম স্বস্তির খবর। কাফ ইনজুরি বা পায়ের পেশীর চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় নেইমারের বেশ ভালো ও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল দল। এই খবর আসার পর সেলেসাও শিবিরে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি কোটি কোটি ফুটবল ভক্তও আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন।
চলতি বছরের গত মাসে করানো এক মেডিকেল স্ক্যানে ধরা পড়েছিল যে, নেইমারের পায়ের পেশী গ্রেড টু মাত্রায় ছিঁড়ে গেছে। এই ধরনের ইনজুরি ফুটবলারদের জন্য বেশ মারাত্মক এবং সময়সাপেক্ষ। চোটের গভীরতা বিবেচনা করে চিকিৎসকরা ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতাকে দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে বা সাইডলাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর ফলে বিশ্বকাপের প্রারম্ভিক ম্যাচগুলোতে তার অংশগ্রহণ নিয়ে তীব্র সংশয় তৈরি হয়। তবে চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এই ৩৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার নেইমারের পায়ের চোটের বর্তমান অবস্থা জানতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্ক্যান করানো হয়।
নতুন এই স্ক্যান রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) একটি সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নতুন মেডিকেল পরীক্ষায় নেইমারের চিকিৎসায় প্রত্যাশিত সীমার মধ্যে অত্যন্ত ভালো ও সন্তোষজনক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বর্তমানে ব্রাজিল জাতীয় দলের দক্ষ মেডিকেল স্টাফদের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ এবং পুনরায় মাঠে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া বা রিহ্যাবিলিটেশন অত্যন্ত সফলভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।’ মেডিকেল বোর্ডের এমন ইতিবাচক সবুজ সংকেত দলের সার্বিক মানসিক শক্তি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
সামনেই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় মিশন—হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লড়াই। আর এই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের জন্য নেইমারের মতো একজন অভিজ্ঞ ও চতুর ‘নাম্বার টেন’ বা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের উপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য অপরিহার্য। আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের সেই প্রথম ম্যাচের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি রয়েছে। আর এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ ফিট হয়ে মাঠে নামার জন্য আক্ষরিক অর্থেই সময়ের বিরুদ্ধে এক কঠিন লড়াই করছেন নেইমার। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শুরু থেকেই নেইমারকে খেলানোর বিষয়ে কোচ হয়তো কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন, তবে তার স্কোয়াডে থাকা এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। চিকিৎসকদের কঠোর তত্ত্বাবধানে নেইমার যেভাবে দ্রুত সাড়া দিচ্ছেন, তাতে মরক্কো ম্যাচেই তাকে হলুদ জার্সিতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।