রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ ধামরাই উপজেলার একটি বিশাল বড় এলাকার গ্রাহকদের জন্য আজ এক সাময়িক ভোগান্তির খবর এসেছে। উন্নয়ন ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আজ মঙ্গলবার ধামরাইয়ের বেশ কিছু এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ। আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৩৩ কেভি লাইনের পুরোনো তার পরিবর্তন, আধুনিকায়ন এবং অত্যন্ত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেইন্যান্স কাজের অংশ হিসেবেই মূলত ধামরাই উপকেন্দ্রের অধীনে থাকা ১, ৩, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ফিডারে এই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ বা শাটডাউন রাখা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার বিকেলে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ধামরাই জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার লিপিয়া খাতুন স্বাক্ষরিত এক জরুরি ও আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার বিষয়টি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য নিশ্চিত করা হয়। এই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সম্মানিত গ্রাহকদের যে সাময়িক ও অনাকাঙ্ক্ষিত অসুবিধা হচ্ছে, তার জন্য ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ধামরাই জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং একই সাথে কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে।
ধামরাই জোনাল অফিসের নির্ভরযোগ্য প্রশাসনিক সূত্র থেকে জানা গেছে, আজ সকাল থেকেই কারিগরি দল মাঠে নেমেছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলাকালীন ধামরাই-১ উপকেন্দ্রের প্রধান প্রধান এলাকার ফিডারগুলো সম্পূর্ণ শাটডাউনে রাখা হয়েছে। এর ফলে ধামরাইয়ের ১, ৩, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ফিডারের আওতাভুক্ত সব ঘনবসতিপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকাসহ ছোট চন্দ্রাইল, বড়চন্দ্রাইল, খাত্রা, ছয়বাড়ীয়া, বাড়ীগাও, বাশাইল, কুল্লা, জলসীন, তালতলা, ইসলামপুর, কুমরাইল, হাসপাতাল রোড, নতুন দক্ষিণপাড়া, থানা কমপ্লেক্স, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আমিন মডেল টাউন, বরাতনগর, বরাত সেন্টার, ধানশিড়ি আবাসিক এলাকা এবং ঢুলিভিটা নামক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এই তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো জরুরি সেবা কেন্দ্রগুলোতে বিকল্প বিদ্যুৎ বা জেনারেটরের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার পরিবর্তনের এই কাজটি সম্পন্ন হলে ওই এলাকার লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং গ্রাহকরা ভবিষ্যতে আরও নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত বিদ্যুৎ সেবা উপভোগ করতে পারবেন। তাই বৃহত্তর স্বার্থে এই সাময়িক অসুবিধা মেনে নিয়ে বিদ্যুৎ কর্মীদের সহযোগিতা করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।