ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

৪৮ দলের মধ্যে ৪৩ নম্বরে ব্রাজিল

গোল না খাওয়ায় সবার সেরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:০৬ পিএম

বিশ্বফুটবলের মহোৎসব দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ বা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মতো বাকি। আগামী ১১ জুন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠতে যাওয়া এই মেগা আসরের ঠিক আগমুহূর্তে ফুটবল দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দলগুলোর রক্ষণভাগের এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এই মুহূর্তে শুধু বিশ্বসেরাই নয়, বরং গত চার বছর ধরে লিওনেল স্কালোনির অধীনে ডিফেন্স বা রক্ষণভাগেরও এক অনন্য রেকর্ড নিজেদের দখলে রেখেছে। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া বিশ্বের সেরা ৪৮টি পরাশক্তির মধ্যে ‘ক্লিন শিট’ অর্থাৎ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচে কোনো গোল হজম না করার অনন্য হারে তালিকায় সবার শীর্ষে অবস্থান করছে আলবিসেলেস্তেরা। বিপরীতে, পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, ৪৮টি দলের এই বৈশ্বিক তালিকায় সেলেসাওদের অবস্থান ৪৩ নম্বরে।

ব্রাজিলের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো স্পোর্তে’র অফিশিয়াল পরিসংখ্যানভিত্তিক মাসকট ‘গাতো মেস্ত্রে’ মূলত ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে এই বর্তমান সময় পর্যন্ত দলগুলোর পারফরম্যান্সের ওপর এক গভীর বিশ্লেষণ ও হিসাব-নিকাশ পরিচালনা করেছে। এই নির্দিষ্ট সময়চক্রে আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক ফুটবলে মোট ৩৯টি ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে রেকর্ড ২৮টি ম্যাচেই (শতকরা ৭১.৮ শতাংশ সফলতা) তারা নিজেদের জাল সম্পূর্ণ অক্ষত রেখে কোনো গোল হজম করেনি। আসন্ন বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া আর কোনো দলই এই নির্দিষ্ট চার বছরের চক্রে শতকরা হারে এত বেশি ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ ধরে রাখতে পারেনি। শুধু গোল হজম না করার এই হারই নয়, ২০২৩ সাল থেকে হিসাব করলে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও অভেদ্য রক্ষণভাগও আর্জেন্টিনার। ৩৯ ম্যাচে সব মিলিয়ে মাত্র ১৪টি গোল হজম করেছে লিওনেল মেসির দল, যা বিশ্বকাপের ৪৮ দলের মধ্যে এককভাবে সর্বনিম্ন।

আর্জেন্টিনার পরেই এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে চমকপ্রদভাবে নাম লিখিয়েছে আফ্রিকার সিংহ মরক্কো। এই চক্রে আশরাফ হাকিমিদের দলটি যতগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে, তার মধ্যে ৬৩.৮ শতাংশ ম্যাচেই তারা কোনো গোল হজম করেনি। শীর্ষ পাঁচের বাকি তিনটি স্থান দখল করেছে যথাক্রমে সেনেগাল (৫৯ শতাংশ), এশিয়ান পরাশক্তি জাপান (৫৫.৮ শতাংশ) এবং ডিআর কঙ্গো (৫৫.৬ শতাংশ)। তবে ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকে মরক্কো অবিশ্বাস্য পারফর্ম করেছে। ২০২৩ সালের চক্র থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত তারা সর্বোচ্চ ৩৭টি ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ ধরে রেখেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলায় সফলতার শতকরা হারে তারা পিছিয়ে পড়েছে। এই সময়ে মরক্কো মোট ৫৮টি ম্যাচ খেলেছে, যা তাদের আলজেরিয়া (৬১ ম্যাচ), সেনেগাল (৬১ ম্যাচ) ও দক্ষিণ আফ্রিকার (৬০ ম্যাচ) পর সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা দলগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।

অন্যদিকে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার ঠিক বিপরীতে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের কঙ্কালসার রূপ ফুটে উঠেছে এই পরিসংখ্যানে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক সফল কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে থাকা সেলেসাওরা এই দীর্ঘ চক্রে মাত্র ২৯.৭ শতাংশ ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ ধরে রাখতে পেরেছে, যা তাদের তালিকার তলানির দিকে অর্থাৎ ৪৩তম স্থানে নামিয়ে দিয়েছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে এ পর্যন্ত ব্রাজিলের ডিফেন্স ভেঙে প্রতিপক্ষ দলগুলো মোট ৪২টি গোল (ম্যাচপ্রতি গড়ে ১.১৭টি) দিয়েছে। মোট ৩৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১১টিতে গোলশূন্য থাকতে পেরেছে তারা। আরও ভীতি জাগানিয়া তথ্য হলো, ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের মহারণের ঠিক আগে নিজেদের খেলা সর্বশেষ পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচেই গোল হজম করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

তবে শুধু ব্রাজিলই নয়, এই পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান ফেবারিট এবং সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের রক্ষণভাগও এই চার বছরে মোটেও ভালো করতে পারেনি। কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে ফরাসিরা মোট ৪০টি ম্যাচ খেলে মাত্র ১৮টিতে ‘ক্লিন শিট’ ধরে রাখতে পেরেছে। একইভাবে ইউরোর অন্যতম দাবিদার স্পেন তাদের খেলা ৩৮টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৮টিতে জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল পর্তুগাল এই চক্রে সবচেয়ে বেশি ৪৯টি ম্যাচ খেললেও মাত্র ২৩টি ম্যাচে কোনো গোল খায়নি। ফলে আশ্চর্যজনকভাবে ফ্রান্স, স্পেন কিংবা পর্তুগালের মতো বিশ্বসেরা ফেবারিট তিনটি দলই রক্ষণভাগের এই শীর্ষ ১০-এর তালিকার বাইরে ছিটকে গেছে। এই পরিসংখ্যানটি প্রমাণ করে যে, শিরোপা ধরে রাখার মিশনে স্কালোনির আর্জেন্টিনা কতটা নিপুণ পরিকল্পনা নিয়ে আমেরিকার মাঠে নামছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর