বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে জনপ্রিয়, মর্যাদাপূর্ণ ও জাঁকজমকপূর্ণ টুর্নামেন্ট ফিফা বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরু হতে আর মাত্র ৩টি দিন বাকি। ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উত্তর আমেরিকার তিন শক্তিশালী দেশ তথা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং নজিরবিহীন এই বিশ্বমঞ্চে এবারই প্রথম রেকর্ডসংখ্যক মোট ৪৮টি পরাশক্তি দেশ একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ৩৯ দিনব্যাপী বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে মোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে, যা বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচের এক নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। মাঠের এই তুমুল লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার ফুটবলার ও দলগুলোর জন্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা টাকার অঙ্কেও এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন চমক নিয়ে এসেছে। এবারের আসরে অংশ নেওয়া চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ থেকে শুরু করে গ্রুপ পর্বের প্রতিটি দলের জন্যই রাখা হয়েছে কোটি কোটি টাকার বিশাল ও চোখ ধাঁধানো প্রাইজমানির চমৎকার ব্যবস্থা।
এবারের মেগা আসরে ফিফা মোট ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ৩২১ কোটি টাকার এক বিশাল ও ঐতিহাসিক অংক। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ধাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বণ্টন করা হবে। ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অর্থাৎ যে দল এবার ফাইনালে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরবে, তারা প্রাইজমানি হিসেবে এককভাবে পাবে রেকর্ড ৫০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৩ কোটি টাকার সমান। তবে কেবল বিশ্বজয়ী দলই নয়, গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্বের প্রতিটি স্তরের বিজয়ী ও বিদায়ী দলগুলোর জন্যই কোটি কোটি টাকার এই রাজকীয় পুরস্কারের ভাগ নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন।
ফাইনালে ট্রফি জয়ের খুব কাছে গিয়েও যারা রানার্সআপ বা রানার্স-আপ হিসেবে রানার্সের তকমা নিয়ে মাঠ ছাড়বে, সেই রানার্সআপ দল সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে পকেটে পুরবে ৩৩ মিলিয়ন ডলারের এক বড় অংক। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারী দল দুটিও খালি হাতে ফিরবে না; তারা প্রাইজমানি হিসেবে যথাক্রমে ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং ২৭ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। এছাড়া ফুটবল বিশ্বের যে ৪টি দল তীব্র লড়াইয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনাল বা কোয়ার্টার-ফাইনাল মঞ্চ থেকে বিদায় নেবে, তাদের প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৯ মিলিয়ন ডলার করে। অন্যদিকে নকআউটের প্রথম ধাপ অর্থাৎ রাউন্ড অফ সিক্সটিন বা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য ফিফার পক্ষ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার করে ক্যাশ প্রাইজ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৪৮ দলের এই বর্ধিত ও নতুন ফরম্যাটের আসরে এবার নতুন যুক্ত হওয়া রাউন্ড অফ থার্টি টু বা রাউন্ড অফ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়া প্রতিটি দলই পাবে ১১ মিলিয়ন ডলার করে। আর বিশ্বমঞ্চে কোয়ালিফাই করার পর যদি কোনো দল নিজেদের ভাগ্য ও পারফরম্যান্সের কারণে গ্রুপ পর্বের প্রথম ধাপ থেকেই বিদায় নেয়, তাদেরও মলিন মুখে বা খালি হাতে দেশে ফিরতে হবে না। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও লাভজনক এই আসরের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া প্রতিটি দুর্ভাগা দলের জন্যও সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে ৯ মিলিয়ন ডলার করে বড় অংকের প্রাইজমানি নিশ্চিত করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। ফলে মাঠের ফুটবল শৈলী প্রদর্শনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই টুর্নামেন্টটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং ঐতিহাসিক এক টুর্নামেন্টে পরিণত হতে যাচ্ছে।