নেপালে ঘুরতে গিয়ে এক মালয়েশিয়ান নারী পর্যটকের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ভিডিও করার অভিযোগে তৌফিক আহমেদ তমাল নামের এক বাংলাদেশী অভিযাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। হিমালয়কন্যার দেশ নেপালের পোখারা অঞ্চলের কাস্কি জেলা পুলিশ কার্যালয়ে এই সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পোখারা এলাকার একটি বিখ্যাত ট্রেকিং রুটে ভ্রমণের সময় একটি হোটেলে অবস্থানের সময় ওই নারীর অনুমতি ছাড়াই গোপনে ছবি ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন অভিযুক্ত তমাল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার সেলাংগর প্রদেশের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই নারী সম্প্রতি নেপাল সফরে আসেন। সফরকালে রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে অবস্থান করার সময় বাংলাদেশী নাগরিক তৌফিক আহমেদ তমালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয় পর্বের পর তাঁরা একসঙ্গে ট্রেকিং রুটে ভ্রমণে যান। সেখানে অবস্থানের সময় অভিযুক্ত তমাল তাঁর অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে এসব সংবেদনশীল ছবি ও ভিডিওর অজুহাতে ভুক্তভোগী নারীকে বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ ও ব্ল্যাকমেইল করার মাধ্যমে হয়রানির পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, তমালকে গ্রেপ্তারের আগে যখন এই ছবি ও ভিডিও ধারণের ঘটনাটি ঘটে, তখন সেখানে আরও কয়েকজন বাংলাদেশী পর্যটক উপস্থিত ছিলেন। এমনকি তমাল নিজেই গাইড বা হোস্ট হিসেবে ওই বাংলাদেশীদের সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তমাল যখন গোপনে ছবি তুলছিলেন, তখন তাঁর দলেরই কয়েকজন সদস্য বিষয়টি টের পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন তিনি এমনটা করছেন। এই নিয়ে স্পটেই তমালের সাথে অন্য বাংলাদেশীদের তীব্র উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখানে ঘটনাটি সাময়িকভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পোখারা শহরে ফিরে এসে ওই মালয়েশিয়ান নারী কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সরাসরি থানায় গিয়ে তমালের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই গত কয়েকদিন ধরে পোখারার গাইরাপাতান এলাকায় অবস্থিত কাস্কি পুলিশ স্টেশনে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন অভিযুক্ত তমাল। মামলার তদন্তের স্বার্থে ইতোমধ্যে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নেপাল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বাংলাদেশী যুবক তমাল বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে এখনও কোনো অকাট্য বা শতভাগ নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে এসব গুরুতর অভিযোগ নিয়ে তৌফিক আহমেদ তমালের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার অবস্থায় লকআপে তাঁর সাথে দেখা করেছেন তাঁর দুজন সহকর্মী এবং একজন স্থানীয় নেপালি গাইড। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানিয়েছেন, তমাল তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং পুরো ঘটনাটিকে 'ভুল বোঝাবুঝি' বলে দাবি করেছেন। তমালের দাবি, তিনি মূলত হোটেলের সৌন্দর্য এবং আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যের ভিডিও করছিলেন। তাঁর সহকর্মীদের কাছে তিনি আরও দাবি করেন, স্পটে মালয়েশিয়ান ওই টিমের সাথে পুরোনো একটি তর্কাতর্কি ও তাঁদের উদ্ধত আচরণের প্রতিশোধ নিতেই তাঁকে এই চক্রান্তমূলক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (পলিটিক্যাল) মো. শোয়েব আবদুল্লাহ এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, তৌফিক আহমেদ তমালকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাঁরা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানতে পেরেছেন। তবে নেপালি প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেহেতু এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত তথ্য তাঁদের কাছে দেওয়া হয়নি, তাই এই মুহূর্তে এ বিষয়ে দূতাবাস থেকে সরাসরি কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি তাঁরা পর্যবেক্ষণ করছেন।