আগামী ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে এক ব্যতিক্রমী ও আকর্ষণীয় বার্তা দিয়েছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। বাংলাদেশে অবস্থিত নরওয়েজিয়ান দূতাবাস থেকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশ এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে খেলছে না, তাই দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে ফেরা নরওয়েকেই সমর্থন করতে পারেন বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকেরা। এই অভিনব আহ্বানটি দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
ঢাকাস্থ নরওয়ে দূতাবাস থেকে দেওয়া ওই বার্তায় নরওয়ে ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথমদিকের পশ্চিমা দেশগুলোর একটি ছিল নরওয়ে। এর পর থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গৌরবময় ইতিহাস ও গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে এই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।
অফিসিয়াল বার্তায় দুই দেশের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কৃতির মধ্যে বেশ কিছু চমৎকার মিলও তুলে ধরা হয়েছে। নরওয়ে দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও নরওয়ে উভয় দেশই মূলত নদী ও সমুদ্রঘেরা উপকূলীয় দেশ। দুই দেশের প্রকৃতির সাথে পানির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। শুধু তাই নয়, বাঙালির প্রিয় খাদ্য মাছের প্রতি মানুষের ভালোবাসাও দুই দেশেই সমানভাবে বিদ্যমান। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বৈশ্বিক ক্রীড়াক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও সমতার মূল্যবোধেও দারুণ মিল রয়েছে দুই দেশের।
বার্তায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের দরবারে তুলনামূলক একটি ছোট রাষ্ট্র। অন্যদিকে নরওয়ে ভৌগোলিক আয়তনে বড় হলেও জনসংখ্যার বিচারে বেশ ছোট একটি দেশ। তবে একটি বিশেষ দিক থেকে দুই দেশের মানসিকতায় কোনো তফাত নেই। বৈশ্বিক বা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশ-নরওয়ে উভয় দেশই সবসময় বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখে। এ ছাড়া বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলমেশিন ও ম্যানচেস্টার সিটির সুপারস্টার স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের উপস্থিতিকেও নরওয়েকে সমর্থন করার একটি অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হালান্ডের জাদুকরী ফুটবল শৈলী উপভোগ করতে হলেও বাংলাদেশের দর্শকদের নরওয়ের পাশে থাকা উচিত বলে মনে করে তারা।
নরওয়ে দূতাবাস থেকে দেওয়া ওই চমৎকার বার্তার শেষে অত্যন্ত আবেগঘন ও বন্ধুসুলভ ভাষায় লেখা হয়েছে, ‘কী বলো, বাংলাদেশ? আন্ডারডগদের পাশে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। এবার একসঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখার সময় হয়েছে।’ ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় নরওয়ের এমন আন্তরিক প্রস্তাব বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগীদের ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন একটি দল বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ খোরাক জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।