ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বিশ্বকাপের রাতে গ্রামীণ জনপদে আলো থাকবে তো?


  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ জুন, ২০২৬ সময় : ৯:১৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এই বিশ্বমঞ্চকে কেন্দ্র করে এখন বাংলাদেশের সর্বত্র এক বিপুল উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত কিংবা অলিগলি– সবখানেই চলছে প্রিয় দলের রঙ-বেরঙের পতাকা টানানো, জার্সি কেনা আর খেলা নিয়ে চিরচেনা আড্ডা ও তর্ক-বিতর্ক। তবে এই উৎসবের আমেজের সমান্তরালে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে যোগ হয়েছে এক বড় শঙ্কা। কারণ, হাইভোল্টেজ খেলা চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকলে কোটি মানুষের সব আনন্দ ও উৎসব ম্লান হয়ে যাবে।

সরকারি নানা পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে এখন বড় ধরনের কোনো বিদ্যুৎ সংকট নেই। জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) তথ্য বলছে, গত কয়েক দিনে দেশের সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট এবং গড় লোডশেডিং ছিল ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্প্রতি সংসদে দাবি করেছেন, দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই; বর্তমানে যা হচ্ছে তা মূলত আবহাওয়াজনিত বিদ্যুৎবিভ্রাট বা কিছু কারিগরি ত্রুটি। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সরকারি এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাভুক্ত গ্রামীণ এলাকাগুলোতে গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তা আর আসছে না।

অবশ্য ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িক মেরামতে থাকায় সামান্য কিছু এলাকায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হচ্ছে। তবে খেলা শুরুর আগেই এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ফুটবল বিশ্বকাপের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা দেশের সব বিতরণ সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।’ ভৌগোলিক সময়ের পার্থক্যের কারণে এবারের অধিকাংশ ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় গভীর রাত, ভোররাত কিংবা সকালে। ফলে টেলিভিশন কিংবা অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের ওপর নির্ভরশীল কোটি দর্শকদের জন্য এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।

বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে উৎপাদন ঘাটতির চেয়ে দেশের বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই নেতিবাচক চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের ওপর। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ ভৌগোলিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আরইবি ও এর আওতাধীন সমিতিগুলো। বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন এবং গ্রামীণ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ ঝড়-বৃষ্টি বা কারিগরি ত্রুটির প্রভাবও এখানে বেশি দেখা যায়। মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো বা ওজোপাডিকোর মতো শহরভিত্তিক বিতরণ কোম্পানির তুলনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রামীণ এলাকাগুলোতেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে মানুষ। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট বা জয়পুরহাটের কালাইয়ের মতো গ্রামীণ জনপদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি ম্যাচগুলো সম্প্রচার করবে। বিটিভির ফিড নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটরগুলো অ্যাপের মাধ্যমে খেলা দেখাবে। এ ছাড়া বিভিন্ন জনবহুল মোড়ে বড় পর্দায় ম্যাচ প্রদর্শনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব আয়োজনের শতভাগ সাফল্য নির্ভর করছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর। ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন– বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর সময়ে ঘরের আলো সচল থাকবে তো?


এ সম্পর্কিত আরো খবর