ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

চীনের অর্থে আরেকটি পদ্মা ও যমুনা সেতুর মহাপরিকল্পনা


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬ সময় : ৩:২২ পিএম

চীনের অর্থায়নে দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে নতুন করে একটি বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগ আনার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে নবগঠিত সরকার। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় দেশে আরও একটি করে নতুন পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণসহ সড়ক, রেল ও সেতু খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২০টির মতো মেগা প্রকল্পের একটি প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এগুলো ইতিমধ্যে অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে এই মেগা প্রকল্পগুলোর বিশাল অর্থায়ন ও ঋণ সহায়তার বিষয়ে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হতে পারে।

সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সড়ক, সেতু ও রেল খাতের এই ২০টি প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে কয়েক লাখ কোটি টাকা। তবে তালিকায় থাকা সব প্রকল্পের জন্য একযোগে এখনই সম্পূর্ণ অর্থায়ন পাওয়া যাবে না বা দ্রুততম সময়ে সব প্রকল্প একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে রাজনৈতিক দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের জনগণের কাছে দেওয়া বিশেষ প্রতিশ্রুতি বা প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নে সরকার সবচেয়ে বেশি জোর দেবে।

কূটনৈতিক সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের একটি রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর যাওয়ার কথা চূড়ান্ত আছে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি রাষ্ট্রীয় সফরে চীন গমনাগমন করবেন। চার মাস আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধান নেতা তারেক রহমানের জীবনের প্রথম কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চীনা অর্থায়নের লক্ষ্যে সবচেয়ে বেশি ৯টি বড় প্রকল্পের নাম জমা দিয়েছে সরকারের সেতু বিভাগ। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও গাইবান্ধার বালাসীঘাটের মধ্যে দেশের দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্প, যা সরাসরি বিএনপির মূল নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। এই দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য বর্তমানে তিনটি সম্ভাব্য পথ বা অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে কারিগরি সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। এর বাইরে চীনা অর্থায়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর পাশাপাশি সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এই মেগা সেতুটি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার মধ্যে নির্মাণ করার জোর প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকার গণপরিবহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করতে রাজধানীর ১১টি রুটে মোট ২৩৮ কিলোমিটার পাতাল পথ বা সাবওয়ে নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও এই চীনা অর্থায়নের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার প্রথম ধাপে চারটি পথ নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে কেরানীগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উড়াল মহাসড়ক বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পরিকল্পনাও এর মধ্যে আছে। বাংলাদেশ রেলওয়েও তাদের চলমান প্রকল্প এবং নতুন ২০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন অনুদান হিসেবে পাওয়ার প্রকল্পসহ মোট ৫টি বড় প্রস্তাব এই চীনা ঋণের আওতায় বাস্তবায়নের জন্য তালিকায় রেখেছে। একই সঙ্গে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর পটুয়াখালীর বাউফল ও দুমকির মধ্যে লোহালিয়া নদীতে আরেকটি নতুন চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দেশের বিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বিগত কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের হরেক রকম প্রকল্প নিয়েছিল, যার অনেকগুলোই ছিল অত্যন্ত অপরিকল্পিত ও ভুল। এই নতুন সরকারের আমলে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন কোনোভাবেই না হয়। যেকোনো বড় অবকাঠামো প্রকল্প গ্রহণ করা হলে অবশ্যই তার সঙ্গে দেশের সংযোগকারী অন্যান্য কী কী আর্থিক সুবিধা হতে পারে, তা সুদূরপ্রসারীভাবে ভাবতে হবে, নতুবা এই বিশাল ব্যয়ের সুফল দেশের সাধারণ মানুষ পুরোটা পাবে না।


এ সম্পর্কিত আরো খবর