ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা

গাজীপুর বিআরটিএতে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:৩৮ পিএম

গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে গিয়ে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, দালাল ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর এই দালাল সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন আফজাল ও রুহুল নামে দুই ব্যক্তি, যাদের প্রভাব ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কাগজপত্রের কার্যক্রম এগোয় না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতাদের তুলনায় দালালদের উপস্থিতিই বেশি। ড্রাইভিং লাইসেন্স, লাইসেন্স নবায়ন, যানবাহনের ফিটনেস সনদ, মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কাজে আসা মানুষদের ঘিরে ধরছেন দালালরা। তাঁদের মাধ্যমে কাজ করালে দ্রুত সেবা পাওয়া গেলেও সরাসরি আবেদনকারীদের নানা জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আফজাল ও রুহুল দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর বিআরটিএ কেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী দালালচক্র পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন ধরনের সেবার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া অনেক কাজ স্বাভাবিক গতিতে সম্পন্ন হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রুহুল অতীতে গাজীপুর বিআরটিএর তালিকাভুক্ত দালাল ছিলেন। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল। তবে শাস্তি ভোগের পর আবারও তিনি একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী টঙ্গীর বাসিন্দা মো. সোহেল রানা বলেন, “ড্রাইভিং লাইসেন্সের একটি কাজ নিয়ে কয়েকদিন ধরে অফিসে ঘুরেছি। কেউ সঠিকভাবে সহযোগিতা করেনি। পরে এক দালালের মাধ্যমে আবেদন করার পর অল্প সময়েই কাজ এগিয়ে যায়। এতে মনে হয়েছে, দালাল ছাড়া এখানে কাজ করা কঠিন।”

গাছা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “গাড়ির ফিটনেস নবায়নের জন্য অফিসে গেলে নানা অজুহাতে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আফজাল অফিসের কর্মচারীদের পরিচিত লোক দাবি করে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। অতিরিক্ত টাকা দিয়েই শেষ পর্যন্ত কাজ করাতে হয়েছে।”

কালিয়াকৈরের ব্যবসায়ী শাহীন আলম বলেন, “মালিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজ জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ফাইল আটকে ছিল। পরে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমি সব সময় সেবাগ্রহীতাদের অনুরোধ করি, কোনো কাজে সমস্যা হলে বা কেউ হয়রানি করলে সরাসরি আমার কাছে অভিযোগ দিতে। কেউ টাকা দাবি করলে তাকে দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে আমার কাছে নিয়ে আসার জন্যও বলি। যাঁদের নাম বলা হয়েছে, তাঁদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হলে বিআরটিএ কার্যালয়ে নজরদারি বৃদ্ধি, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা চালু এবং দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে না এবং সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে দালালনির্ভরতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সেবা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো এবং সরাসরি নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

   আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর