প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা না পেলেও বিরতির পর জমে ওঠে ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ৩৭ মিনিটের মধ্যে চার গোলের রোমাঞ্চ ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে জাপান। সোমবার (১৫ জুন) ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত লড়াই করে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে এশিয়ার পরাশক্তিরা। শেষ সময়ে প্রত্যাবর্তনের অনন্য এক গল্প লিখে ডাচদের রুখে দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিল সামুরাই ব্লু-রা।
ম্যাচে ৬৪ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল নেদারল্যান্ডসের। ডাচরা ১১টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, অন্যদিকে জাপান ৮টি শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রাখে। তবে পরিসংখ্যানের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও মাঠের ভেতর অত্যন্ত কার্যকর ও গোছানো ফুটবল খেলেই কাঙ্ক্ষিত ফল তুলে নেয় জাপান।
শুরু থেকেই ছোট ছোট পাসে খেলা গড়ে জাপানকে নিজেদের অর্ধে চেপে রাখে নেদারল্যান্ডস। তৃতীয় মিনিটেই কোডি গাকপোর পাস থেকে ডনিয়েল মালেন গোলের সুযোগ পেলেও জাপানের গোলরক্ষক তা দারুণভাবে রুখে দেন। এরপরও প্রথমার্ধের পুরোটা সময় একাধিক আক্রমণ চালায় ডাচরা। রক্ষণাত্মক কৌশলে শুরু করলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে জাপান। নাকামুরা ও দাইচি মায়েদার নেতৃত্বে কয়েকটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে তারা। ২৮তম মিনিটে নাকামুরার পাস থেকে হিরোকি ইতোর দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে ৩৫তম মিনিটে কর্নার থেকে মালেনের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন জাপানের গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নাকামুরা ও আয়াসে উয়েদাও দুটি ভালো সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় নেদারল্যান্ডস। অবশেষে ৫১তম মিনিটে বাঁ দিকের একটি ফ্রি-কিক থেকে সৃষ্ট আক্রমণে ডেনজেল ডামফ্রিসের ক্রসে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি জাপান। ৫৭তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে কেইতো নাকামুরার দুর্দান্ত ডান পায়ের শট ডিফেন্ডারের গায়ে হালকা ছোঁয়া লেগে জালে জড়ালে ১-১ সমতা ফেরে।
সমতার তিন মিনিট পরই আবার এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ৬৪তম মিনিটে ডান দিক থেকে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জাপানের জালে বল পাঠান ক্রিসেনসিও সামারভিল। দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি জাপান। ৭৫তম মিনিটে একসঙ্গে তিন পরিবর্তন এনে আক্রমণের গতি বাড়ান জাপানি কোচ। এর মধ্যেই ৭৩তম মিনিটে কোডি গাকপোর শট ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন জাপানের গোলরক্ষক। ৭৯তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ইউকিনারি সুগাওয়ারাও একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন।
তবে শেষ পর্যন্ত জাপানিদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয় ৮৮তম মিনিটে। কর্নার থেকে কোকি ওগাওয়ার বাড়ানো বলে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন দাইচি কামাদা। তাঁর এই নান্দনিক গোলে ২-২ সমতায় ফেরে জাপান এবং ম্যাচে ফিরে আসে নতুন উত্তেজনা। শেষদিকে জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে নেদারল্যান্ডস। যোগ করা অতিরিক্ত ছয় মিনিটে একাধিক আক্রমণ চালালেও জাপানের সংগঠিত রক্ষণভাগ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতার সন্তুষ্টি নিয়ে শেষ হয় মাঠের তুমুল লড়াই।