প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায়) ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত উপায়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বর্তমান সরকার। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ভারত থেকে উপযুক্ত ও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলে তিনি নিশ্চয়ই সেখানে সফরে যাবেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরকারের কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদ বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কথা বললে কারও কারও কাছে মনে হতে পারে যে আমরা দেশ বিকিয়ে দিতে যাচ্ছি। তবে আমি খুব স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই— বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এই সরকার কখনও করবে না। আমাদের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ এবং দেশের স্বার্থ। সুতরাং ভারতের সঙ্গে আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পৃক্ত হতে চাই। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গায় থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে আমাদের যৌথ উন্নতির বড় সুযোগ আছে।” পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইন্টেরিমের সময় দুই দেশের সম্পর্কটা যথেষ্ট খারাপ পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। আমরা সেসব অতীত তিক্ততা সরিয়ে রেখে নতুন করে এনগেজ করতে চাই, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে চাই। দুই দেশের এই এক্সচেঞ্জ নানান ফর্মে হতে পারে।”
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার এজেন্ডা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যই নয়, দুই দেশের মধ্যে অনেকগুলো অমীমাংসিত জরুরি বিষয় রয়েছে। গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের ডিসেম্বরে। আমাদের সেই গুরুত্বপূর্ণ পানি চুক্তি রিনিউয়াল বা নবায়ন নিয়ে আলোচনার আছে। এছাড়া আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়েও কথা বলতে হবে। আমাদের অভিন্ন আরও টোটাল ৫৩টি নদী আছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের পূর্ণ অধিকার বা রাইট আছে। এসব জাতীয় স্বার্থ আদায়ে আমাদের অবশ্যই ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে হবে এবং সেখানে যদি কোনোভাবে রোল প্লে করার সুযোগ আসে, আমি সেটা লুফে নেবো।”
তিনি অতীতে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি বিষয়ের রেশ ধরে বলেন, “আমার সঙ্গে পূর্বে যে আচরণ হয়েছিল, তার জন্য আমি যা করেছি, তা ছিল ওই আচরণের একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই ভারত তার পুরোনো মানসিকতা পরিবর্তন করে আমাদের সঙ্গে পজিটিভলি এগিয়ে আসবে। ইনফ্যাক্ট, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তারা অনেকবারই এই কথাবার্তা বলেছেন যে, বাংলাদেশে জনগণের ম্যান্ডেট-প্রাপ্ত যে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার আসবে, তার সঙ্গে তারা কাজ করবেন। আমি আশা করি তারা তাদের সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এগিয়ে যাবেন। আবারও বলছি, ব্যক্তি জাহেদ হিসেবে আমি কোনো বিষয় ব্যক্তিগতভাবে নেইনি। বিষয়টি আমি দেখেছি একটি রাষ্ট্রের, একটি সরকারের পজিশনের একজন মানুষের মর্যাদা হিসেবে।”