ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সাভারে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ বিহীন অভিযান: কয়েল ফ্যাক্টরির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:২৮ পিএম

স্টাফ রিপোর্টার 

ঢাকার সাভারে কোনো রকম ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব দক্ষতায় এক সফল গ্যাস বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গত ১৫ জুন তারিখে পেট্রোবাংলা টিম এবং জোবিঅ-সাভার ও ইমারজেন্সি শাখা-সাভার যৌথভাবে এই বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। সাভারের জোবিঅ-সাভারের আওতাধীন চারিগ্রাম (সিংগাপুর ট্রেনিং সেন্টার) সংলগ্ন কুরগাও, নবীনগর এবং কর্ণপাড়া এলাকায় অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদ ও সংযোগ বিচ্ছিন্নের লক্ষ্যে এই অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালীন প্রথম স্পট হিসেবে সাভারের চারিগ্রাম (সিংগাপুর ট্রেনিং সেন্টার) সংলগ্ন কুরগাও নবীনগর এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে মেসার্স শারমিন ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি মশার কয়েল ফ্যাক্টরির সন্ধান মেলে, যার মালিকের নাম মো: আল আমিন। অনুসন্ধানকারী দল উক্ত কয়েল ফ্যাক্টরিতে একটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিপজ্জনক গ্যাস সংযোগের অস্তিত্ব সনাক্ত করে। তিতাসের যৌথ টিম তাৎক্ষণিকভাবে কয়েল ফ্যাক্টরিটির সনাক্তকৃত অবৈধ গ্যাস সংযোগটি অপসারণ করে এবং সংযোগের উৎসস্থল স্থায়ীভাবে কিল করে দেয়। পরিদর্শনের সময় উক্ত অবৈধ প্রতিষ্ঠানে প্রাপ্ত স্থাপনা ও লোডের বিবরণ সংগ্রহ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ফ্যাক্টরিটিতে ১৫০ ঘনফুট/ঘন্টা ক্ষমতার মোট ২টি ড্রায়ার ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেই হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির ঘন্টা প্রতি গ্যাস ব্যবহারের লোড ছিল ৩০০ ঘনফুট। অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের কারণে তাদের মাসিক প্রাক্কলিত লোড হিসাব করা হয় ৩,০০৩ ঘনমিটার। তিতাস টিমের হিসাব অনুযায়ী, কয়েল ফ্যাক্টরিটির মালিক মো: আল আমিন প্রতি মাসে প্রায় ৯১,৬১৮ টাকার সমপরিমাণ সরকারি গ্যাস অবৈধভাবে চুরি করছিলেন। কয়েল ফ্যাক্টরির এই অবৈধ সংযোগটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি একই এলাকায় বকেয়া গ্যাস বিল পরিশোধ না করার কারণে একটি আবাসিক গ্রাহকের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।


পরবর্তীতে তিতাসের এই বিশেষ যৌথ টিম দ্বিতীয় স্পট হিসেবে সাভারের কর্ণপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। ওই এলাকায় ইতিপূর্বে বাইপাস অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের দায়ে বিচ্ছিন্নকৃত শিল্প শ্রেণির গ্রাহক মেসার্স সাম ব্রার্দাস (গ্রাহক সংকেত: ৩৩৮০০৫৮) এর শিল্প আঙ্গিনায় ঝটিকা পরিদর্শন করা হয়। তবে পরিদর্শনকালে তিতাস টিম উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় নতুন করে কোনো ধরনের অবৈধ সংযোগ বা বাইপাস লাইনের আলামত খুঁজে পায়নি। টিম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পায় যে, শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে তিতাসের গ্যাসের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সিএনজি (CNG) ব্যবহার করা হচ্ছে।

ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ বাহিনী ছাড়াই তিতাস গ্যাসের নিজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত পেট্রোবাংলা টিম, জোবিঅ-সাভার ও ইমারজেন্সি শাখা-সাভারের এই সমন্বিত ও সফল অভিযান স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। কোনো ধরনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া কেবল দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের এমন সাহসী ও সুনির্দিষ্ট ঝটিকা অভিযান সাভার শিল্পাঞ্চলে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তিতাস গ্যাস কতৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারের কোটি কোটি টাকার মূল্যবান জ্বালানি সম্পদ রক্ষা করতে এবং গ্যাস চুরি সম্পূর্ণ রোধ করতে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ বিহীন আকস্মিক যৌথ অভিযান আগামীতেও নিয়মিত অব্যাহত রাখা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর