ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

একনেক সভায় ৭ হাজার কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:৩১ পিএম

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা সরকারি তহবিল থেকে খরচ করা হবে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ তথা বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অনুমোদিত এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে একদম নতুন প্রকল্প রয়েছে ৩টি এবং পুরোনো সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে ২টি।

মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ একনেক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং নদীভাঙন রোধসহ সার্বিক জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজকের এই বিশেষ একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর মধ্যে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পটির নাম ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করতে এবং চীনা শিল্প অঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পটি বিশেষ অবদান রাখবে।

এ ছাড়া দেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন তিনটি বড় প্রকল্প আজকের সভায় অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো ফেনী জেলার মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)। এই অঞ্চলের কৃষিজমি রক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে এটি কাজ করবে। দ্বিতীয়টি হলো করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প, যা উত্তরবঙ্গের নদী অববাহিকার সামগ্রিক পরিবেশ ও নাব্যতা রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর হবে। এবং তৃতীয়টি হলো পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষা প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী। এই অঞ্চলের নদীভাঙন কবলিত মানুষের জানমাল রক্ষার্থে প্রকল্পটি জরুরি ভিত্তিতে সংশোধন ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়া অন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। দেশের তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী আজকের একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

আজকের একনেক সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনুমোদিত এবং ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত অতিরিক্ত চারটি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক সভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি পরিসরের এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প, নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাভার স্থাপন প্রকল্প, বিমান বাহিনী স্টেশন শমসেরনগরে বিএএফ শাহীন কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ত্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রমের চতুর্থ পর্যায় প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলো দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আবাসন, শিক্ষা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

উচ্চপর্যায়ের এই একনেক সভায় মন্ত্রিসভার সম্মানিত সদস্য এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের অবস্থান থেকে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর