ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ভয়াবহ ফাউল করেও পার পেলেন মেসি, বিতর্কের মুখে রেফারিং


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬ সময় : ৩:৪২ পিএম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ যেন নাটকের এক অভূতপূর্ব মঞ্চ। মাঠের লড়াইয়ে দক্ষতা আর কৌশলের পাশাপাশি মাঠের বাইরের বিতর্কগুলোও যেন সমানতালে জায়গা করে নিচ্ছে। বিশ্বকাপের চলতি আসরে প্রথম হ্যাটট্রিক করে লিওনেল মেসি যখন শিরোনামে, ঠিক সেই মুহূর্তেই তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক। আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার আইসা মান্দির ওপর মেসির করা একটি বিপজ্জনক ফাউলকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা হওয়ার কারণে কি মেসি বিশেষ কোনো সুরক্ষা বা ছাড় পাচ্ছেন?

ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের একটি বল দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে। বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টায় মেসি বেশ আনাড়ি ও বিপজ্জনকভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসেন আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বলের নাগাল না পেয়ে মেসির বুটের স্টাড সরাসরি আইসা মান্দির কাফ পেশির পেছনের অংশে আঘাত করে। এই ধরনের ফাউল আধুনিক ফুটবলের নিয়মে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাধারণত সরাসরি লাল কার্ডের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। অথচ বিস্ময়করভাবে রেফারি সেখানে শুধুমাত্র একটি ফ্রি-কিক দিয়েই দায় সেরেছেন। মেসিকে কোনো হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো তো দূরের কথা, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিও (ভিএআর) ঘটনাটি পর্যালোচনা করার প্রয়োজন বোধ করেননি।

মেসি মাঠেই মান্দির কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু তার এই সদিচ্ছা বিতর্কের উত্তাপ কমাতে পারেনি। ম্যাচ শেষে ইএসপিএন এফসির টকশোতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ফুটবল বিশ্লেষক আলে মোরেনো এবং নেদুম ওনোহা। মোরেনোর প্রশ্ন ছিল খুবই স্পষ্ট ও ধারালো—"বড় তারকা খেলোয়াড়রা কি রেফারিদের কাছ থেকে সবসময়ই বিশেষ বা পক্ষপাতমূলক সুবিধা পান?" তাদের মতে, এই ঘটনাটি ছিল স্পষ্ট লাল কার্ডের অপরাধ। কিন্তু মাঠের রেফারি এবং ভিএআর প্রযুক্তির এই নীরবতা অনেকের মনেই ফিফার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়ায় সমালোচনার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। ভক্তদের একটি বড় অংশ বিষয়টিকে ‘পাগলামি’ এবং ‘ফিফার পক্ষপাতিত্ব’ হিসেবে দেখছেন। অনেকে মনে করছেন, বিশ্বকাপের শুরুতেই রেফারিরা অতিরিক্ত কার্ড প্রদর্শন করে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। হয়তো সেই চাপ থেকে বাঁচতেই রেফারিরা এখন কিছুটা নমনীয় বা সহনশীল হওয়ার কৌশল বেছে নিয়েছেন। ফিফার পক্ষ থেকে হয়তো রেফারিদের ওপর এমন কোনো অলিখিত নির্দেশনা আছে, যাতে খেলা যেন খুব দ্রুত কার্ডের কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়। আর এই সুযোগেই হয়তো মেসি বড় কোনো শাস্তি থেকে বেঁচে গেছেন।

তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য এটি আশীর্বাদ হয়েই এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের যে কোনো দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলে পরের ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা অনিবার্য। নকআউট পর্বের আগে মেসিকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে দেখতে চাইবে না আর্জেন্টিনা। ফলে মাঠের এই ‘অদৃশ্য’ সুবিধা মেসি ও তার দলকে সামনের পথচলায় বাড়তি স্বস্তি দিচ্ছে। এখন ফুটবল বিশ্বের চোখ থাকবে ফিফার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে—তারা কি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করবে, নাকি রেফারিদের এই বিতর্কিত ‘নরম’ দৃষ্টিভঙ্গিই বজায় থাকবে? উত্তর মিলবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর