বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে অনেকেই সমস্যা হিসেবে দেখলেও এটিকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ও আশীর্বাদ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বিশ্বকে পথ দেখানোর সক্ষমতা রাখে। শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ বা কেআইবি মিলনায়তনে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করতে হবে অন্যের জন্য, নিজের জন্য নয়। এই শিক্ষার পরেও, জুলাই ৩৬-এর শিক্ষার পরেও যদি বাংলাদেশের রাজনীতিকরা শিক্ষা না নেন, তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে তা বলা মুশকিল। প্রধানমন্ত্রী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোনো কাঠামো থেকে বের করে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি দেশের শিশুদের উন্নত বিশ্বের মতো সুন্দর পোশাক ও জুতা-মোজা পরে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন। দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া শিশুদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা এবং পরে টাকার বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু করেছিলেন। তিনি মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত উপবৃত্তি চালু করেন, যা পরে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়। উনার জ্যেষ্ঠ সন্তান জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি মেয়েদের ডিগ্রি পর্যন্ত উপবৃত্তির ব্যবস্থা করলেন। অর্থাৎ ধারাবাহিকতা রয়েছে—মা যেভাবে দেখেছেন, ছেলে ঠিক সেভাবেই দেখছেন।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য মিডডে মিল চালু করা হচ্ছে, যাতে তারা ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে তাদের পড়াশোনাকে আনন্দময় করতে ‘লার্নিং হ্যাপি ক্লাস’, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং চারিত্রিক মূল্যবোধ শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি সাঁতার, দাবাসহ বিভিন্ন খেলাও প্রাথমিক স্তর থেকেই অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তিনি মাত্র ১৬ দিনের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ১৬ দিনে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে যে ভিশনারি পরিবর্তন এনেছিলেন, বোধ হয় ওই পরিমাণ কাজ আমরা করতে পারিনি।’ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকলের শাস্তির বিধানও তিনিই অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
রোটারি ইন্টারন্যাশনালের কার্যক্রমের প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রোটারিয়ানরা সেবার জন্য কাজ করেন। রোটারির চারটি সত্যকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে উদাহরণমূলক বিষয়গুলো তুলে ধরার ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক। তিনি বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সঠিক মূল্যবোধ শেখানো আমাদের দায়িত্ব। বাংলাদেশ পুরো বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে, কারণ আমরা অত্যন্ত জনবহুল দেশ। অনেকে জনসংখ্যাকে বোঝা মনে করলেও এটিই আমাদের আশীর্বাদ।