এবারের বৈশ্বিক আসরে নিজেদের ফুটবল যাত্রার প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল হাইতি। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করে। ফলে গ্রুপ পর্বের ব্যাক-টু-ব্যাক দুই ম্যাচ শেষে হাইতির ঝুলিতে জমা হয়েছে শূন্য পয়েন্ট। অন্যদিকে, গ্রুপে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে এক জয় ও এক ড্রয়ের সুবাদে ব্রাজিল ও মরক্কো উভয়েই ৪ পয়েন্ট করে অর্জন করেছে। এছাড়া স্কটল্যান্ডের ঝুলিতে এই মুহূর্তে রয়েছে ৩ পয়েন্ট। হিসাব অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে যদি হাইতি বড় ব্যবধানে জয়ও পায়, তাহলেও তারা আর কোনোভাবেই স্কটল্যান্ডকে টপকে টেবিলের ওপরের দিকে উঠতে পারবে না।
এর মূল কারণ হলো, এবারের বিশ্বকাপের নতুন নিয়মানুযায়ী দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে গোল ব্যবধানের আগে প্রথম বিবেচনা করা হচ্ছে দল দুটির মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফল। যেহেতু নিজেদের প্রথম ম্যাচেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গিয়েছিল হাইতি, তাই মুখোমুখি লড়াইয়ের সেই সমীকরণেও বেশ পিছিয়ে রয়েছে ক্যারিবীয় দলটি। এর ফলে শেষ ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, গ্রুপের তলানি বা শেষ স্থান থেকে হাইতির আর উপরে ওঠার কোনো গাণিতিক সুযোগ অবশিষ্ট নেই।
উল্লেখ্য, ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাটে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি পরের রাউন্ডে যাবে। এর পাশাপাশি বারোটি গ্রুপের মধ্যে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও নকআউট পর্বে খেলার সুবর্ণ সুযোগ পাবে। কিন্তু হাইতি তাদের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে যাওয়ায় এবং মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ায় সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সেই ন্যূনতম সম্ভাবনাটুকুও সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে।
দীর্ঘ ৫৪ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ বিশ্বকাপে ফিরতে পেরেছিল হাইতি। বড় স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বমঞ্চে আসলেও ক্যারিবীয় দলটির সেই রোমাঞ্চকর যাত্রা এবার গ্রুপ পর্বেই থমকে গেল। তবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও গ্রুপ পর্বে হাইতির আরও একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। নিজেদের নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচে তারা শক্তিশালী মরক্কোর মুখোমুখি হবে। প্রথম দুই ম্যাচ হারলেও শেষ ম্যাচে একটি সান্ত্বনার জয় নিয়ে বিশ্বমঞ্চ ছাড়তে চায় হাইতি।