শনিবার বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ইসমাইল সাইবারির দারুণ এক গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। ম্যাচের একদম শুরুর দিকে হওয়া সেই গোলটিই শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর বর্তমান পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে চার, আর স্কটল্যান্ডের সংগ্রহে রয়েছে তিন পয়েন্ট। এদিকে অন্য ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের পয়েন্টও এখন চার।
অথচ এবারের বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে বেশ দুর্দান্ত ও শুভ সূচনা করেছিল কোচ স্টিভ ক্লার্কের দল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে মরক্কোর কাছে হেরে যাওয়ায় এখন নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে হলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ভালো ফলাফল করার কোনো বিকল্প নেই স্কটিশদের সামনে।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধিনায়ক জন ম্যাকগিন বলেন, “আজ আমরা মাঠে দেখিয়েছি যে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলগুলোর সঙ্গে সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য আমাদের আছে। ব্রাজিল অবশ্যই একটি ভিন্ন ধরনের দল, তাদের খেলার ধরন ও কৌশল আলাদা এবং তারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। তবে তাদের বিপক্ষে সফল হতে হলে আমাদের নিজেদের সেরাটা উজার করে দিতে হবে।” মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করেও পুরো সময়জুড়ে দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে যায় স্কটল্যান্ড। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে থাকা শক্তিশালী মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তীব্র চাপ তৈরি করলেও দুর্ভাগ্যবশত গোলের দেখা পায়নি তারা।
ম্যাকগিন নিজেদের শক্তির জায়গা উল্লেখ করে আরও বলেন, “আমরা হয়তো সবসময় বিশ্বের শীর্ষ দলগুলোর মতো অতটা মানসম্পন্ন ফুটবল খেলি না, কিন্তু আমাদের লড়াই করার মানসিকতা এবং দৃঢ় চরিত্র আছে। আমরা মাঠে কখনো হাল ছাড়ি না।” ফুটবল বিশ্বকাপে এটি স্কটল্যান্ডের নবম অংশগ্রহণ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এখন পর্যন্ত কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই তারা গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি। এবার সেই পুরোনো ও ব্যর্থতার ইতিহাস সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে দলটি।
দলের প্রধান কোচ স্টিভ ক্লার্কও দলের নকআউটে যাওয়ার ব্যাপারে সমান আশাবাদী। তিনি বলেন, “এই দলটি বছরের পর বছর ধরে নিজেদের দৃঢ়তা ও সক্ষমতা দেখিয়েছে। মরক্কোর কাছে হেরে ছেলেরা কিছুটা হতাশ, কিন্তু আমাদের সামনে এখনো পরের রাউন্ডে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ আছে। আমরা এবার বিশ্বমঞ্চে এমন কিছু করে দেখাতে চাই, যা কোনো স্কটিশ দল আগে কখনো করতে পারেনি।” আগামী বৃহস্পতিবার মায়ামিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে একটি জয় বা ইতিবাচক ফলাফল পেলেই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারবে স্কটিশরা।