প্যারাগুয়ে এবং তুরস্কের মধ্যকার এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিক পর্যন্ত দুই দলই অত্যন্ত গতিময় ফুটবল উপহার দিয়েছে। আক্রমণে এবং প্রতি–আক্রমণে একের পর এক সুযোগ তৈরির মরিয়া চেষ্টা করেছে উভয় দলই। তবে ম্যাচের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই তুরস্কের খেলোয়াড় মের্ত মুলদুরকে মুখ ঢেকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কিছু একটা বলেন প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন। মুখ ঢাকার কারণে বিষয়টি প্রথমে রেফারির নজরে না আসলেও, ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী অন-ফিল্ড রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে তা ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) প্রযুক্তির সাহায্যে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চেক করেন। ভিডিও ফুটেজ ও অডিও পরীক্ষা করার পর রেফারি আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। বিশ্ব ফুটবলে ফিফার এই নতুন নিয়মের অধীনে এটিই প্রথম লাল কার্ড দেখার ঐতিহাসিক ঘটনা।
লাল কার্ডের এই নাটকীয়তার আগে অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই এক অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দেয় প্যারাগুয়ে। রেফারির কিক অফ বাঁশির বাজার মাত্র ৬৫ সেকেন্ডের মাথায় দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোল করে প্যারাগুয়েকে লিড এনে দেন মাতিয়াস গালারজা। প্রথমার্ধের প্রথম ৪৫ মিনিটের খেলা শেষেও লাতিন আমেরিকার দলটি সেই ১-০ ব্যবধানেই এগিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে ফেরে। যদিও বিরতির ঠিক আগেই আলমিরনের বিদায় তাদের ১০ জনের দলে পরিণত করেছিল।
ম্যাচের মাত্র ৬৫ সেকেন্ডে করা প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারজার এই গোলটি চলতি বিশ্বকাপ আসরের দ্রুততম গোল হিসেবে রেকর্ড বুকে স্থান করে নিয়েছে। এর আগে আজই অন্য একটি ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারি ম্যাচের ৭১ সেকেন্ডে গোল করে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই মরক্কোর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন প্যারাগুয়ের গালারজা। প্রথমার্ধের এই ১-০ গোলের লিডকে ম্যাচের বাকিটা সময় ১০ জন নিয়ে বুক চিতিয়ে ডিফেন্ড করে মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে। তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নেয় লাতিন আমেরিকার এই লড়াকু দলটি।