ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

পরিত্যক্ত গর্তে ছাগল উদ্ধারে গিয়ে একই পরিবারের ৪ জন নিহত


  • আপলোড সময় : শনিবার ২০ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:২৪ পিএম

আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার টেলকি এলাকায় এক চরম হৃদয়বিদারক ও লোমহর্ষক পারিবারিক ট্র্যাজেডির ঘটনা ঘটেছে। বাড়ির একটি গৃহপালিত ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে পরিত্যক্ত টয়লেটের গভীর গর্তে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়ে একই পরিবারের ৪ জন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের গভীর গর্তের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত মিথেন ও কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণে অক্সিজেনের তীব্র অভাব ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যেই গর্তে নামা ৪ জন মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহতরা সবাই গারো সম্প্রদায়ের সদস্য এবং প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তারা একই পরিবারের ঘনিষ্ঠ জন। নিহতরা হলেন—গ্রাব্রিয়েল নকরেক (৪৫), রতন নকরেক (২৫), বাবলু হাদিমা (৩৫) এবং শিশু নেইমার ম্রং (১০)। এই আকস্মিক ও শোকার্ত ঘটনায় পুরো টেলকি এলাকা জুড়ে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের বাতাস।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালের দিকে পরিবারের একটি পোষা ছাগল অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশে থাকা একটি বহুদিনের পুরোনো ও পরিত্যক্ত টয়লেটের গভীর গর্তের ভেতরে পড়ে যায়। ছাগলটির চিৎকার শুনে পরিবারের একজন সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে সেটিকে টেনে ওপরে তোলার জন্য কোনো রকম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই গর্তের ভেতরে নেমে পড়েন। কিন্তু গর্তের ভেতরে নামার সাথে সাথেই সেখানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা তীব্র ও বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় তিনি মুহূর্তেই অচেতন হয়ে পড়েন এবং আর ওপরে ওঠার কোনো সাড়া শব্দ দিচ্ছিলেন না। তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং গর্তের ওপরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর, পরিবারের অন্য সদস্যরা অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভেতরে ঠিক কী ঘটেছে তা না বুঝেই, প্রথমজনকে অচেতন অবস্থা থেকে টেনে তুলতে ও উদ্ধার করতে পরিবারের দ্বিতীয় আরেকজন সদস্য দ্রুত গর্তের ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনিও বিষাক্ত গ্যাসের নীল ছোবলে আক্রান্ত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে গর্তের তলদেশে পড়ে যান।

এরপর বাইরের পরিস্থিতি আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। গর্তের ভেতর থেকে পরপর দুইজনের কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন এবং প্রিয়জনকে বাঁচানোর মরিয়া তাড়না থেকে পর্যায়ক্রমে আরও দুইজন সদস্য ওই একই পরিত্যক্ত গর্তের ভেতরে নামেন। কিন্তু প্রকৃতির নিষ্ঠুর নিয়মে এবং ঘাতক গ্যাসের তীব্র বিষাক্ততার কারণে ভেতরে নামা ৪ জন সদস্যের কেউই আর সুস্থ অবস্থায় ওপরে ফিরে আসতে পারেননি। একপর্যায়ে তীব্র বিষাক্ত গ্যাসে সম্পূর্ণ শ্বাসরুদ্ধ ও আক্রান্ত হয়ে গর্তের গভীর অন্ধকারের ভেতরেই ওই চারজন মানুষের ছটফট করতে করতে মর্মান্তিক ও অকাল মৃত্যু হয়। বাইরে থাকা প্রতিবেশীরা গর্তের ভেতরে ৪ জনকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত চিৎকার শুরু করলে চারপাশ থেকে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

দুর্ঘটনার পর পরই খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ টিমের সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। উদ্ধারকারীরা বিশেষ প্রক্রিয়ায় গর্তের বিষাক্ত গ্যাস কিছুটা অপসারণ করে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গর্তের গভীর থেকে চারজনের নিথর মরদেহ একে একে ওপরে টেনে তোলেন। টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম. ফজলুর হক গণমাধ্যমের কাছে এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “একটি ছাগল পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্তে পড়ে গেলে সেটিকে উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে প্রথমে একজন কোনো সুরক্ষা ছাড়াই গর্তে নামেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকজন গর্তে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে গর্তের ভেতরের তীব্র বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ও শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ৪ জনেরই করুণ মৃত্যু হয়।” পুলিশ জানায়, মরদেহগুলো উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনার পর পুরো টাঙ্গাইল জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর