চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ মিলিয়ে প্রতিপক্ষের গোলমুখে মোট ৬২টি শট। বলের দখলও ম্যাচের বেশি ভাগ সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। একের পর এক আক্রমণ করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে সার্বক্ষণিক মহা চাপে রাখা। কিন্তু ফুটবল নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে কাঙ্ক্ষিত সেই গোলের দেখা শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল তুরস্কের। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হারের পর, আজ ১০ জনের প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ ব্যবধানের নূন্যতম হারে টুর্নামেন্ট থেকে আগেভাগেই বিদায় নিল তুরস্ক। টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের ফলে দীর্ঘ দুই যুগ পর ফুটবল বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্কের টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে গেল গ্রুপ পর্বের আরও এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। এবারের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়া দ্বিতীয় দল তুরস্ক, এর আগে ‘সি’ গ্রুপ থেকে হাইতির বাদ পড়া নিশ্চিত হয়েছিল।
সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটাই ছিল তুরস্কের জন্য এক বড় দুঃস্বপ্নের মতো। খেলা শুরুর মাত্র ৬৫ সেকেন্ডেই হুলিও এনসিসোর চমৎকার ফ্লিক থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে নেন মাতিয়াস গালারজা। ম্যাচের একদম শুরুতে খাওয়া সেই গোলটিই পরে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী একমাত্র গোল হয়ে থাকে। গোল খাওয়ার পর থেকেই ম্যাচে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে তুরস্ক। একের পর এক নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। মের্ত মুলদুরের শক্তিশালী একটি হেড ক্রসবারে লেগে পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধে কেনান ইয়িলদিজও গোলের খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর নেওয়া শটটি দুর্ভাগ্যবশত সাইড নেটে আঘাত করে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে এক নাটকীয় মোড় নেয়। তুরস্কের মের্ত মুলদুরের সঙ্গে মুখ ঢেকে কথা বলায় প্যারাগুয়ের তারকা খেলোয়াড় মিগুয়েল আরমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান মাঠের প্রধান রেফারি। ফিফার নতুন নিয়মে মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে এটিই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম লাল কার্ডের ঘটনা। এর ফলে ম্যাচের বাকি অর্ধেক সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় প্যারাগুযেকে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় একজন কমে যাওয়ার পর তুরস্ক আক্রমণে চাপ আরও বেশি বাড়ানোর সুযোগ পায়। কিন্তু আক্রমণে ধারহীনতা ও ফিনিশিংয়ের চরম ব্যর্থতায় তা আর কাজে লাগেনি। ফুটবল পরিসংখ্যান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অপটার হিসাব অনুসারে, ম্যাচে মোট ৩২টি শট নিয়েছে তুরস্ক, যার মধ্যে মাত্র ৫টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে মাত্র ৭টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ২টি।
ম্যাচের শেষ দিকে গোলের আরও দুটি সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল তুরস্কের সামনে। ৮৯তম মিনিটে কান উজুনের দূরপাল্লার একটি কড়া শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। ফিরতি বলও জালে জড়াতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন ওগুল। এরপর যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে আরদা গুলেরের ক্রস থেকে মেরিহ ডেমিরালের নেওয়া চমৎকার হেডটি অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। সুযোগ নষ্টের এই মহড়াই শেষ পর্যন্ত তুরস্কের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুই ম্যাচে গোল না করেও এত বেশি শট নেওয়ার নজির আর কোনো দলের নেই। অথচ দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষদের মাত্র ১৬টি শট থেকে ৩টি গোল হজম করেছে তারা। ‘ডি’ গ্রুপে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের পয়েন্ট দুই ম্যাচে ৩ করে।