মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরের রাজৈরে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের মহিষমারি গ্রামে এ নির্মম ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার (২২ জুন) সকালে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের বিছানায় প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ছটফট করছে অবুঝ শিশুটি। এই বয়সে যেখানে তার বাড়ির উঠানে খেলে বেড়ানোর কথা, সেখানে হাসপাতালের বেডে কাটছে তার সময়। এমন অমানুষিক নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা-বাবা ও স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে মহিষমারি গ্রামের পলাশ সরকারের ছেলে চন্দন সরকার কৌশলে শিশুটিকে তার ফাঁকা ঘরে ডেকে নেয়। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালায় সে। একপর্যায়ে নির্যাতিতার মা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে গেলে চন্দন ঘরের দরজা খুলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে রাজৈর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের পরামর্শে ওই দিন দুপুরেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আজ আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কৌশলে চন্দন আমার মেয়েটিকে ঘরে ডেকে নিয়ে এই জঘন্য কাজ করেছে। কোনোভাবেই এই নির্মমতা মেনে নিতে পারছি না। আমি এই নরপশুর কঠিন বিচার চাই।’ স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর থেকেই চন্দন ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। সাড়ে তিন বছরের শিশুর সাথে এমন বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. আসাদুজ্জামান জানান, নির্যাতনের অভিযোগে এক শিশুকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ভর্তি করা হয়। একটি মেডিকেল টিম গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, তাদের রিপোর্টের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে পলাতক। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর