কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় নরসুন্দা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করেন।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার সদর বাজারসংলগ্ন বরুহা ব্রিজের নিচ দিয়ে নরসুন্দা নদীর স্রোতে ভেসে আসা শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে একটি ডিঙ্গি নৌকার সাহায্যে মরদেহটি উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
নিহত শিশুর নাম তরিকুল ইসলাম (৫)। তিনি উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের পংপাচিহা (জালধোয়া পাড়া) গ্রামের ওমর ফারুক মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে বরুহা ব্রিজের নিচ দিয়ে একটি শিশুর মরদেহ ভেসে যেতে দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর তরিকুলের পরিবারের সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। সেখানে তারা মরদেহটি তরিকুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।
শিশুটির স্বজনরা জানান, নরসুন্দা নদীর তীরবর্তী এলাকায় তাদের বসবাস। সোমবার খেলার সময় কখন যে তরিকুল নদীতে পড়ে যায়, তা কেউ বুঝতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে খুঁজে পাননি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নদী থেকে একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবর দেখে তারা হাসপাতালে গিয়ে নিশ্চিত হন যে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তরিকুলের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর তীরবর্তী এলাকায় শিশুদের অবাধ চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।