রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দুটি প্রিন্টিং কারখানায় সংঘটিত আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযানে ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে চট্টগ্রামের দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
সোমবার (২২ জুন) ভোরে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও আকবর শাহ থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া দুটি কম্প্রেসার ও দুটি মোটর উদ্ধার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। একই অভিযানে ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার নিউ শহীদলেন এলাকার শামসুল আলমের ছেলে মুরাদ হাসান (৩৫) এবং বোয়ালমারী থানার সর্বাতুলি এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে রাসেল আহমেদ (৩২)।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন গভীর রাতে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় অবস্থিত নিপুন সিনথেটিক লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এসডিকে প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং কারখানায় ২০ থেকে ২৫ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে।
এরপর কারখানার নৈশপ্রহরী আব্দুল মালেক, মোবাশ্বির ও হৃদয় হাসানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে লুটপাট চালানো হয়। ডাকাতরা প্রিন্টিং মেশিন, কম্প্রেসার, রোলার, বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টস, ল্যাপটপ এবং শ্রমিকদের বেতনের নগদ অর্থসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কারখানার মালিক ইকবাল হায়দার চৌধুরী বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পরবর্তীতে সোমবার ভোরে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও আকবর শাহ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া দুটি কম্প্রেসার ও দুটি মোটর উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, "গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" পুলিশ জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার অভিযানও চলমান থাকবে।
আকাশজমিন / আরআর