ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

মেসির অবিশ্বাস্য গোল উদ্‌যাপন: কে এই ভাগ্যবান সাংবাদিক ব্রুনো?


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:১১ পিএম

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচের তখন অন্তিম মুহূর্ত, ঘড়ির কাঁটায় ৯৫তম মিনিট। আলবিসেলেস্তেদের ১-০ গোলের জয় তখন অনেকটাই নিশ্চিত, কেবল শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা। ঠিক সেই মহোত্তম ক্ষণেই অস্ট্রিয়ার রক্ষণদূর্গ চূর্ণ করে নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সাধারণত এমন নাটকীয় গোলের পর ফুটবলাররা উল্লাসে মেতে ওঠেন সতীর্থদের জড়িয়ে ধরে কিংবা কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে গিয়ে। তবে ফুটবল জাদুকর মেসি এবার হাঁটলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে। গোল করার পর তিনি মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে সোজা দৌড়ে গেলেন গোলপোস্টের পেছনে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক গণমাধ্যমকর্মীর দিকে। পরম মমতায় কাছে গিয়ে হুট করেই হাত মেলালেন তাঁর সঙ্গে। ক্যামেরার লেন্সে এই অবিশ্বাস্য মুহূর্তটি ধরা পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বজুড়ে শুরু হয় তীব্র কৌতূহল—কে এই সাংবাদিক, যাঁর দিকে গোল করার পর স্বয়ং মেসি এভাবে ছুটে গেলেন?

মেসির সেই বিশেষ ভালোবাসায় সিক্ত হওয়া ভাগ্যবান সাংবাদিকের নাম হোয়াকিন ব্রুনো। তিনি আর্জেন্টিনার অত্যন্ত জনপ্রিয় ক্রীড়াভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-এর একজন নিয়মিত মাঠ প্রতিবেদক। ঐতিহাসিক সেই ম্যাচের পর নিজের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে ব্রুনো জানিয়েছেন, ঘটনাটি এখনো তাঁর নিজের কাছেই একটা অবিশ্বাস্য স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। মেসির ওই জাদুকরী গোলের আগপর্যন্ত আর্জেন্টিনা ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও অস্ট্রিয়া যেভাবে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালাচ্ছিল, তাতে যেকোনো সময় সমতা ফেরার একটা তীব্র শঙ্কা ছিল। ম্যাচের সেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে ব্রুনো লিখেছেন, “পুরো স্টেডিয়ামে তখন তীব্র স্নায়ুচাপ। মনের ভেতর আবেগের এক বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল।”

ঠিক সেই নাটকীয় মুহূর্তে ব্রুনো গোলপোস্টের পেছনে একদম একা দাঁড়িয়ে ছিলেন। কারণ তাঁর নিয়মিত সহকর্মী গাস্তোন এদুল ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য ততক্ষণে মিক্সড জোনে চলে গিয়েছিলেন। ঠিক ৯৫তম মিনিটে প্রথমে অস্ট্রিয়ার গোলমুখে তীব্র শট নেন হুলিয়ান আলভারেজ, তবে তা প্রতিহত করেন অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার। ফিরতি বলে আবারও শট নেন মেসি, সেটিও কোনোমতে রুখে দেয় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ। তবে তৃতীয় প্রচেষ্টায় আর কোনো ভুল করেননি ফুটবল জাদুকর। বল সরাসরি আছড়ে পড়ে অস্ট্রিয়ার জালে।

সাংবাদিক হোয়াকিন ব্রুনো তখন সেই ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে দাঁড়িয়ে ছিলেন। গোল হতেই পেশাদারিত্বের দেয়াল ভেঙে তিনি নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। টিওয়াইসির এক কলামে তিনি লিখেছেন, “আমি তখন একজন সাংবাদিকের পরিচয় ভুলে সম্পূর্ণ পাগলের মতো চিৎকার করে উঠি, যেন আমি কোনো রিপোর্টার নই, গ্যালারির উম্মত্ত এক আর্জেন্টাইন সমর্থক।” এরপরই ঘটে সেই অবিস্মরণীয় ঘটনা। ব্রুনোর ভাষ্যমতে, “আমি চিৎকার করছি আর হঠাৎ দেখলাম লিও সোজা আমার দিকেই হেঁটে আসছে। সে আমার চোখের দিকে তাকাল এবং পরম শ্রদ্ধায় কাছে এসে আমার বাড়িয়ে দেওয়া হাতে হাত মিলিয়ে গোল উদ্‌যাপন করল।”

ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়েই কাঁপানো কণ্ঠে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে ব্রুনো বলেন, “আমার শরীর এখনো কাঁপছে, আমি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারছি না। লিও এসে ঠিক আমার সামনে দ্বিতীয় গোলটি উদ্‌যাপন করল এবং আমার উন্মাদনা দেখে হাত মেলাল। এটি আমার সাংবাদিকতা জীবনের শ্রেষ্ঠতম দিন।” পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি আরও আবেগঘন হয়ে লেখেন, “একজন মনে-প্রাণে আর্জেন্টাইন ফুটবলপ্রেমী এবং মেসি–ভক্তের জন্য এই অবর্ণনীয় অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। এই মুহূর্ত আর সেই ঐতিহাসিক ছবিটা আমি আমৃত্যু বুকে লালন করব।”

তবে ঘটনার পর ব্রুনোর মনে একটা সূক্ষ্ম দুশ্চিন্তা ভর করেছিল—ফটোগ্রাফাররা সেই সোনালি মুহূর্তের ছবি আদৌ ক্যামেরাবন্দী করতে পেরেছেন তো? তাই তিনি সহকর্মীদের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন, “আমার যেকোনো মূল্যে ওই ছবিটা দরকার।” তবে তাঁর ভাগ্য এতটাই সুপ্রসন্ন ছিল যে, মাঠে থাকা আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফাররা মুহূর্তটি মিস করেননি। ঘটনার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ব্রুনোর ফোনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অজস্র বার্তা আসতে শুরু করে, যেখানে সবার ফোনেই ছিল মেসির সঙ্গে তাঁর হাত মেলানোর সেই কালজয়ী ছবি।

উল্লেখ্য, হোয়াকিন ব্রুনো আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সাংবাদিকতার জগতে বেশ পরিচিত মুখ। বিখ্যাত আর্জেন্টাইন ক্লাব রেসিংয়ের অভ্যন্তরীণ খবর কাভার করার মধ্য দিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি জনপ্রিয় ফুটবল বিশ্লেষণধর্মী টকশো ‘প্রেসিওন আলতা’র প্যানেলিস্ট হিসেবে দারুণ খ্যাতি অর্জন করেন। চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে টিওয়াইসি স্পোর্টসের হয়ে আর্জেন্টিনা দলের প্রতি মিনিটের আপডেট কভার করছেন ব্রুনো। তবে এবারের বিশ্বকাপে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় প্রতিবেদনটি কোনো কাগজের পাতায় নয়, বরং চিরকালের জন্য খোদাই হয়ে রইল একটি ফ্রেমে—যেখানে বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি গোল করে পরম মায়ায় হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁরই দিকে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর