২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে একাই আরোহণ করেছেন। তবে মেসির এই ১৮টি গোলের ব্যবচ্ছেদ করলে একটি বেশ চমকপ্রদ ও অদ্ভুত পরিসংখ্যান বেরিয়ে আসে। দেখা গেছে, বিশ্বমঞ্চে তাঁর করা ১৮টি গোলের মধ্যে ১৬টি গোলই এসেছে এমন সব দেশের বিপক্ষে, যারা ফুটবল ইতিহাসে কখনো বিশ্বকাপ ট্রফি জেতার স্বাদ পায়নি।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের খাতা খুলেছিলেন মেসি। এরপর ২০১৪ বিশ্বকাপে তিনি বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, ইরান এবং নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মোট চারবার জালের দেখা পান। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও নাইজেরিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে আরও একটি গোল করেন তিনি।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের চ্যাম্পিয়ন করার পথে মেসি গোল করেছিলেন সৌদি আরব, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। এর মধ্যে সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার জালে তাঁর গোলগুলো এসেছিল পেনাল্টি থেকে। আর চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে চোখ ধাঁধানো হ্যাটট্রিকের পর সবশেষ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করলেন আরও দুটি গোল। এই তালিকায় থাকা কোনো দলেরই ট্রফি জয়ের অতীত ইতিহাস নেই।
ফুটবল ইতিহাসের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মেসির গোলসংখ্যা মাত্র দুই। কাতার বিশ্বকাপের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তিনি জোড়া গোল করেছিলেন, যার একটি ছিল পেনাল্টি স্পট থেকে। অর্থাৎ, সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কেবল ফ্রান্সেরই জাল ভাঙতে পেরেছেন এলএমটেন, বাকি ১৬টি গোলই এসেছে ট্রফিহীন দলগুলোর বিপক্ষে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতে গোল করে যেমন বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন, তেমনি একই ম্যাচে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার। বিশ্বকাপে এখন সবচেয়ে বেশি—সর্বমোট ৩টি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও এখন মেসির দখলে। তবে ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসেও যেভাবে মেসি প্রতি ম্যাচে রেকর্ড বই নতুন করে লিখছেন, তাতে এই ছোটখাটো খামতি তাঁর মহিমা বিন্দুমাত্র কমাতে পারছে না।