গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই নতুন সিস্টেমের ওপর আয়োজিত একটি বিশেষ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। বুধবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারীরা প্রায়ই নানা ধরনের পদ্ধতিগত জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং ফাইলের খোঁজে বারবার অফিসে যাতায়াতের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হন। ওপিটিএমএস পুরোপুরি কার্যকর হলে এই ভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্র্যাকিংয়ের সুযোগ থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতা আসবে এবং সরকারি সেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত হবে, যা পরোক্ষভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের কল্যাণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ১৫ বছরের পুনঃস্থাপন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো পেনশনভোগী মারা গেলে তাঁর পরিবার আর পেনশন পুনঃস্থাপনের সুবিধা পায় না। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বিদ্যমান নীতিটি পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক একটি সমন্বিত ও হালনাগাদ কর্মচারী ডেটাবেস তৈরির ওপর জোর দিয়ে বলেন, অতীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো কেন্দ্রীয় সমন্বিত ডেটাবেস না থাকায় পেনশন মঞ্জুরির সময় নানামুখী জটিলতা তৈরি হতো। এখন নিখুঁত ডেটাবেস সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে পেনশন অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটি পানির মতো সহজ হয়ে যাবে। এ সময় তিনি অবসরপ্রাপ্ত এবং পারিবারিক পেনশনভোগীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে একটি আলাদা ডেটাবেস ও বিশেষ ‘হেল্প ডেস্ক’ চালুর প্রস্তাব করেন।
অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে অনেক প্রবীণ মানুষ অসহায় বোধ করেন। নতুন এই ওপিটিএমএস ব্যবস্থা তাঁদের মনের ভয় দূর করে আস্থার জায়গা তৈরি করবে। তিনি এই উদ্যোগের কর্মপরিকল্পনা জানিয়ে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের নিয়মিত পেনশন মামলার ক্ষেত্রে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে এটি অর্থ বিভাগ, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়সহ দেশের সব মন্ত্রণালয়, অধীনস্থ অধিদপ্তর এবং মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে সম্প্রসারণ করা হবে। এ ছাড়া তিনি অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী তাঁর বক্তব্যে জানান, পেনশন-পরবর্তী সুযোগ-সুবিধা এবং অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ঝামেলামুক্ত সেবা উপভোগ করছেন।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের বাজেট-১ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং এসপিএফএমএস কর্মসূচির জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন। তিনি আইবাস++ (iBAS++) অ্যাপ্লিকেশনের অভূতপূর্ব সফলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সাধারণ ভবিষ্য তহবিল বা জিপিএফ অটোমেশন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা মডিউল, ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা (টিএ/ডিএ) মডিউল, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড ডেটাবেস এবং এলপিসি মডিউল চালুর মাধ্যমে আইবাস++ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ব্যাপক অবদান রেখেছে। নতুন ওপিটিএমএস ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ার ফলে অবসর গ্রহণের আগের পেনশন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল ও সহজ হবে।
অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন অর্থ বিভাগের বাজেট ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসপিএফএমএসের পেনশন, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়নের মান ও সময়ানুবর্তিতা বিষয়ক স্কিমের প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ ও কো-অর্ডিনেটর ড. মাহফুজা বেগম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পেনশন সেবা আরও আধুনিক করার বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।