উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোল বন্যায় ভাসানোর পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন সিআরসেভেন। সেখানে এক স্প্যানিশ সাংবাদিক লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের বর্তমান ফর্ম টেনে প্রশ্ন শুরু করতেই তাকে মাঝপথে থামিয়ে দেন রোনালদো। কোনো মন্তব্য না করে বেশ ক্ষুব্ধ ভঙ্গিতে মুখ ফিরিয়ে নেন এবং অন্য এক সাংবাদিককে প্রশ্ন করার ইশারা করেন। পরবর্তীতে এ প্রসঙ্গে রোনালদো সাফ জানিয়ে দেন, ‘প্রশ্নের মান কেমন, তার ওপর নির্ভর করছে আমি উত্তর দেব কি না। পছন্দ না হলে আমি কোনো জবাব দেব না।’
তবে একই সংবাদ সম্মেলনে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সম্ভাব্য মহারণ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ইতিবাচক উত্তর দেন এই ফরোয়ার্ড। রোনালদো বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না এই মুহূর্তে এর কী উত্তর দেওয়া উচিত। এই প্রশ্নের আসলে এখন খুব একটা অর্থ নেই। তবে হ্যাঁ, যদি শেষ পর্যন্ত এমন কিছু ঘটে, তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সেটি হবে একদম দুর্দান্ত ও অবিশ্বাস্য।’
এর আগে কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র এবং নিজের অফ-ফর্ম নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছিলেন রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করার পর ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে রোনালদোর চিৎকার করে বলা ‘আই অ্যাম ব্যাক’ (আমি ফিরে এসেছি) বার্তাই প্রমাণ করে দেয়, তিনি কতটা মানসিক চাপে ছিলেন। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে এই কিংবদন্তি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ আমার জন্য ভীষণ কঠিন ও অন্ধকারচ্ছন্ন ছিল। মনে হচ্ছিল আমি যেন ফুটবল খেলাটাই ভুলে গেছি। কিন্তু আমি লড়াই থামাইনি, কারণ আমি সবসময় কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাস করি।’
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই জোড়া গোলের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন রোনালদো। ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অবিস্মরণীয় বিশ্বরেকর্ড এখন তার দখলে। একই সাথে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে এখন সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। ১০টি গোল করে রোনালদো ভেঙে দিয়েছেন পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার ইউসেবিওর ৯ গোলের ঐতিহাসিক রেকর্ড।