বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দুই দেশের সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচি সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষে উভয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার লক্ষ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই স্মারকগুলো স্বাক্ষরের মাধ্যমে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্রেট হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি বিশেষ ভোজসভার আয়োজন করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। এর আগে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হল অব পিপলে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। দুই দেশের এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আকাশজমিন / আরআর