ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মাত্র সপ্তম মিনিটেই নরওয়ের রক্ষণভাগ ভেঙে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন দেম্বেলে। শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ২০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সদ্য ব্যালন ডি’অর জয়ী এই উইঙ্গার। অবশ্য এর পরের মিনিটেই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় নরওয়ে। ২১তম মিনিটে থেলোনিয়াস আসগার্ডের দারুণ এক গোলে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করে তারা।
তবে নরওয়ের এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি দেম্বেলে। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে অরেলিয়েন চুয়ামেনির বাড়ানো নিখুঁত পাস পেনাল্টি বক্সে নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। এরপর বাঁ পায়ের জাদুকরী এক বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান এই ফরাসি তারকা। নরওয়ের গোলরক্ষক কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। এই গোলের মাধ্যমে মাত্র ৩২ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান দেম্বেলে। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে সাবেক চেকোশ্লোভাকিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার এরিক প্রবস্টের ২৪ মিনিটের হ্যাটট্রিকটি এখনও এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। দ্বিতীয়োয়ার্ধের শুরুতেই বক্সের ভেতর অস্কার বব ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেন। তার দুর্বল শটটি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ। ফলে ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় নরওয়ের। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে নরওয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন দেজিরে দুয়ে। তার গোলে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে গত আসরের রানার্সআপরা।