বিশ্বকাপের মঞ্চে অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়লেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে। ম্যাচের মাত্র ৩২ মিনিটের মধ্যেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। শুরু থেকে দারুণ ছন্দে থাকা এই ফরোয়ার্ডের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে নরওয়ের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করে ফ্রান্স।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড এখনো অস্ট্রিয়ার সাবেক স্ট্রাইকার এরিক প্রবস্টের দখলে। তিনি ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে সাবেক চেকোশ্লোভাকিয়ার বিপক্ষে মাত্র ২৪ মিনিটে তিন গোল করেছিলেন। সেই রেকর্ড ভাঙতে না পারলেও মাত্র ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম কীর্তির মালিক হলেন সদ্য ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে ফ্রান্স। আক্রমণভাগের ধারালো ফুটবলের ফল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই প্রথম গোল করেন দেম্বেলে। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি ফরাসিরা। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলে ২০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন দেম্বেলে। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ফ্রান্স।
তবে এক মিনিট পরই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় নরওয়ে। ২১তম মিনিটে থেলোনিয়াস আসগার্ড গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। এতে কিছুটা আশা জাগলেও ফরাসি আক্রমণের তীব্রতা কমেনি। বরং আরও সংগঠিত ফুটবল খেলতে থাকে তারা।
ম্যাচের ৩২তম মিনিটে আসে স্মরণীয় মুহূর্তটি। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের সূচনা করেন অরেলিয়েন চুয়ামেনি। তিনি পেনাল্টি বক্সের ভেতরে নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন উসমান দেম্বেলের কাছে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের অসাধারণ বাঁকানো শটে দূরের কোণে বল জড়িয়ে দেন তিনি। দেম্বেলের এই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নরওয়ের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।
এই গোলের মধ্য দিয়েই মাত্র ৩২ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের কীর্তিও নিজের নামে লেখান তিনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার গতি, দক্ষতা ও গোল করার অসাধারণ সামর্থ্য ফ্রান্সকে এনে দেয় বড় আত্মবিশ্বাস।
সদ্য ব্যালন ডি’অর জয়ের পর বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন উসমান দেম্বেলে। তার এই অনন্য কীর্তি শুধু ফ্রান্সের জন্যই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।