ইতালির রাজধানী রোমে নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শিশু কন্যাসহ এক বাংলাদেশি দম্পতির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় রোমের উপকণ্ঠের একটি আবাসিক এলাকায় এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ট্র্যাজিক ঘটনায় ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর পরই খুনিদের ধরতে চিরুনি অভিযানে নেমেছে রোম পুলিশ।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসা এবং এজিআই-এর বরাতে জানা গেছে, রোমের ‘ভিয়া মন্তিলিও’ এলাকার একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাবা, মা ও তাদের মাত্র ছয় বছর বয়সী শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাদের অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে ভাগ্যক্রমে এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেছে এই দম্পতির এক কিশোর ছেলে। হামলার সময় সে কোনোভাবে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়। পরে পুলিশ তাকে রক্তাক্ত ও ছুরিকাহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছেলেটির অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং রোম পুলিশের বিশেষ শাখা ‘মোবাইল স্কোয়াড’। তারা পুরো এলাকাটি কর্ডন করে ভবনের বাইরে ফুটপাত এবং একটি গণ-ডাস্টবিন থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে। তবে কী কারণে একই পরিবারের তিনজনকে এভাবে হত্যা করা হলো, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নিহত এই বাংলাদেশি পরিবারের কোনো অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই এবং কোনো সন্দেহজনক চক্রের সাথেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি।
এদিকে ইতালির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইল মেসাজ্জেরো জানিয়েছে, ঘরের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো আলামত না পাওয়ায় তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিবারের পরিচিত বা খুব ঘনিষ্ঠ কোনো ব্যক্তির হাত থাকতে পারে। তবে ইতালির বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে এবং খুনিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের স্বার্থে বেশ কিছু তথ্য আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। বর্তমানে নিহতদের কল রেকর্ড, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।