প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই সরকার ও সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব দিয়েছে। তাই দেশের স্বার্থ, জনগণের কল্যাণ এবং জাতীয় উন্নয়নকে সামনে রেখেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নিজেদের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের দল সব সময় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতে বিশ্বাস করে। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং জনগণের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, নিজের অবস্থান থেকে সব সময় দেশের এবং দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেকোনো সাফল্য কোনো ব্যক্তি বা দলের একক অর্জন নয়। বরং এসব অর্জন পুরো বাংলাদেশের এবং দেশের মানুষের। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থকে সামনে রেখে কাজ করলে তার সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করেন। তাই দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ইতিবাচক অর্জন জনগণের সম্মিলিত অর্জন হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। দেশের উন্নয়নের জন্য সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে।
সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, এখানে কোনো ব্যক্তিগত বিষয় বা ব্যক্তিস্বার্থের প্রশ্ন নেই। সফল কোনো সফর কিংবা ইতিবাচক কোনো অর্জনের মাধ্যমে যদি দেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়, তবে তার সুফল দেশের মানুষই ভোগ করবে। তাই যেকোনো অর্জন বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশের মানুষের।
নিজের বক্তব্যে সমর্থন জানানোয় বিরোধীদলীয় নেতাসহ জাতীয় সংসদের সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে জাতীয় উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। সংসদে গঠনমূলক আলোচনা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সহজ হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার উন্নয়ন, অর্থনীতি, কূটনীতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এভাবেই বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।