মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ হতদরিদ্র ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রোগী চোখের আলো ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। চোখের ছানি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দুই দিনব্যাপী এই বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের হাজরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়। চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি গাইনি ও মেডিসিন রোগীদেরও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়।
সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সের রোগীরা ভিড় করতে শুরু করেন ক্যাম্পস্থলে। অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান, বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা বিতরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভোগা রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। অনেকেই এমন উদ্যোগকে মানবিক ও সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন।
এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয় চরমুগরিয়া বন্দর পাট ব্যবসায়ী সমিতির সহযোগিতায় এবং শহরের প্লানেট হাসপাতালের উদ্যোগে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রত্যন্ত এলাকার হতদরিদ্র প্রায় ৪০০ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে থেকে গুরুতর রোগীদের অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচিত রোগীদের রাজধানীতে নিয়ে গিয়ে ফ্যাকো সার্জারিসহ প্রয়োজনীয় অপারেশন ও উন্নত চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে।
এটি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি নয়, বরং অন্ধকার জীবন থেকে আলোর পথে ফেরার একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. আব্দুল মান্নান বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। গুরুতর রোগীদের রাজধানীতে নিয়ে গিয়ে ফ্যাকো সার্জারিসহ অপারেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।”
আয়োজক লোকমান হোসেন মোল্লা বলেন, “মানুষের সেবা দেওয়ার ব্রত নিয়ে আমরা বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। অসহায় মানুষ যেন তাদের হারিয়ে যাওয়া চোখের আলো ফিরে পায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের কাজ চলছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে এলাকাবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এমন বড় চক্ষু সেবা ক্যাম্প পরিচালনা সম্ভব নয়, তাই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
স্থানীয়রা জানান, এমন বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দরিদ্র মানুষ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকেন, এমন উদ্যোগ তাদের জীবনে নতুন আশা জাগিয়েছে।
এই ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে এবং আগামীতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের সেবা চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা ও আয়োজকরা।
আকাশজমিন / আরআর