ফুটবল ইতিহাসের দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তারা। অথচ চলতি বিশ্বকাপের মঞ্চে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। এমন লজ্জাজনক ও হতাশাজনক পারফরম্যান্স কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এইউএফ)। আর দলটির ওপর ফুটবল ফেডারেশনের সেই চরম অসন্তোষের তাৎক্ষণিক বহিঃপ্রকাশ ঘটল এক অভিনব ‘শাস্তি’র মাধ্যমে—বাতিল করে দেওয়া হলো খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ চার্টার্ড বিমান (চার্টার্ড ফ্লাইট)।
উরুগুয়ের স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম এল পাইস এবং টেলিভিশন নেটওয়ার্ক টেনফিল্ডের এক যৌথ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেদে ভালভের্দেদের দল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার পরপরই উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখা বিশেষ চার্টার্ড বিমানটি বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। ফুটবল নিয়ামক সংস্থার এমন কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে উরুগুয়ের ফুটবলারদের এখন সাধারণ বাণিজ্যিক বিভিন্ন বিমানের (কমন কমার্শিয়াল ফ্লাইট) টিকিট কেটে সম্পূর্ণ আলাদা আলাদাভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হতে হবে। ফলে দলের ফুটবলারদের কেউ ফিরবেন নিজেদের দেশে, আবার কেউ সরাসরি চলে যাবেন নিজ নিজ ক্লাবের ডেরায়।
এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে অত্যন্ত কঠিন ‘এইচ’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম পরাশক্তি উরুগুয়ে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করার পর, শেষ ম্যাচে পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না উরুগুয়ের সামনে। কিন্তু বাঁচা-মরার সেই শেষ মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইউরোপের পরাশক্তি স্পেনের কাছে ১-০ গোল ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হয় উরুগুয়েকে।
দলটির এমন ভরাডুবির পরপরই খেলোয়াড়দের চার্টার্ড বিমানে করে রাজকীয়ভাবে দেশে ফেরানোর পূর্বপরিকল্পনা থেকে পুরোপুরি সরে আসে উরুগুয়ের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। টুর্নামেন্ট চলাকালীন মেক্সিকোর বেস ক্যাম্প থেকে দলের সব সদস্যকে একসঙ্গে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানী মন্টেভিডিওতে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ আর পাচ্ছেন না ভালভের্দেরা।
উল্লেখ্য, এই গ্রুপ থেকে নকআউট বা শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে শক্তিশালী স্পেন এবং চমক দেখানো আফ্রিকান দেশ কেপ ভার্দে। অন্যদিকে উরুগুয়ে ৩ ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের তৃতীয় দল হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায় ঘটল ১৯৩০ ও ১৯৫০ আসরের সাবেক এই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।