ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়াল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। এরপর মাত্র ২৫ মিনিটের ঝড়ে উজবেকিস্তানের জালে ৩টি গোল উৎসব করে মাঠ ছাড়ে আফ্রিকান দলটি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় নিয়ে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন এক গৌরবগাথা রচনা করল কঙ্গো; নিশ্চিত করল নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট। দীর্ঘ ৫২ বছর আগে ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রেখেছিল দেশটি। দীর্ঘ বিরতির পর নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আসরে এসেই বাজিমাত করল তারা।
আটালান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণ—সব বিভাগেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে কঙ্গো। তবে ম্যাচের ধারার বিপরীতে একদম শুরুর দিকেই ধাক্কা খায় তারা। খেলার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় এল্ডর সমুরোদোভের চমৎকার গোলে লিড নেয় উজবেকিস্তান। এই এক গোলের লিড তারা ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত অত্যন্ত শক্ত হাতে ধরে রাখে। একই সাথে কঙ্গোর একের পর এক আক্রমণাত্মক ফুটবলকে বারবার রুখে দিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে উজবেক রক্ষণভাগ।
তবে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্তটি আসে, যখন পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আফ্রিকান দলটি। ডি-বক্সের ভেতর উজবেকিস্তানের ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানোভ একটি ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে কঙ্গোর ফরোয়ার্ড ইয়োয়ানে উইসার পায়ে আঘাত করে বসেন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করতে কোনো ভুল করেননি ইওয়ান উইসা। এই গোলের মাধ্যমে সমতায় ফিরে উল্লাসে মেতে ওঠে গণতান্ত্রিক কঙ্গো।
সমতায় ফেরার ঠিক দশ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৭৮ মিনিটে কঙ্গোকে উল্লাসের জোয়ারে ভাসিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ফিস্তন মায়েলে। লিড নেওয়ার পরও আক্রমণের ধার বিন্দুমাত্র কমায়নি কঙ্গো। উল্টো উজবেক ডিফেন্সকে চেপে ধরে ব্যবধান আরও বাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে। অবশেষে ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৯১ মিনিটে) নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করে কঙ্গোর ঐতিহাসিক বড় জয় নিশ্চিত করেন তারকা স্ট্রাইকার উইসা।
এর আগে, ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক আসরে কঙ্গোর পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। সেবার গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের সবকটিতেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের, যার মধ্যে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার একটি লজ্জাজনক রেকর্ডও ছিল। তবে এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে এক নতুন ইতিহাস লেখার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিল কঙ্গো। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে হারলেও তারা লড়াই করেছিল সমানে সমানে। আর আজ গ্রুপ পর্বের শেষ ও বাঁচা-মরার ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে জায়গা করে নিল গণতান্ত্রিক কঙ্গো।