ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৭১২


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬ সময় : ৭:২৭ পিএম

দেশজুড়ে উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকা হাম ও হামের সদৃশ উপসর্গের প্রকোপে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষাকৃত বা নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। নতুন করে চার শিশুর প্রাণহানির ফলে দেশে এ পর্যন্ত হাম ও হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১২ জনে। আজ রোববার (২৮ জুন) সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ জরুরি সংবাদ বার্তায় দেশব্যাপী হাম পরিস্থিতির এই সর্বশেষ ও উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আজ প্রকাশিত এই হালনাগাদ হিসাবটি মূলত গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টার সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুদের আঞ্চলিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন করে শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা ৯৩ জন। অন্যদিকে, হামের তীব্র উপসর্গ অর্থাৎ জ্বর ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে মারা গেছে আরও ৬১৯ জন শিশু। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে মোট ৯৯ হাজার ২০৭ জন শিশু।

আর এই দীর্ঘ সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে ১১ হাজার ৭১০ জন শিশুর শরীরে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত দেশের প্রায় এক লাখ ১০ হাজার ৯১৭ জন কোমলমতি শিশু হাম ও হামের তীব্র উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যমতে, এই সংকটকালীন সময়ে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ও সাধারণ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল মোট ৮২ হাজার ৮৪৪ জন শিশু। তাদের মধ্যে যথাযথ নিবিড় চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে সফলভাবে হাসপাতাল থেকে নিজের ঘরে ফিরে যেতে পেরেছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন শিশু।

এছাড়া কেবল গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৮৮৯ জন শিশু। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে অত্যন্ত আনন্দের সাথে নিজের বাবা-মায়ের কোলে ফিরে গেছে ৮৬৫ জন শিশু। ঢাকার মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালসহ দেশের প্রধান প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের জন্য বিশেষায়িত নেবুলাইজার সেবা ও জরুরি লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সাথে শিশুদের সুরক্ষায় যথাসময়ে হামের প্রতিষেধক বা এমআর টিকা দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর