বিশ্বকাপ ফুটবলের মাঠ কাঁপানোর ব্যস্ততার মাঝেই নিজের রাজকীয় ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য নতুন করে খবরের শিরোনামে এলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। নিউ জার্সিতে দলের অনুশীলনের ফাঁকে গত শুক্রবার (২৬ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরে গিয়ে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের একটি চোখধাঁধানো ঘড়ি কিনেছেন তিনি, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি টাকার সমান।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই ফুটবলারের ঘড়িপ্রীতির কথা সবারই জানা। অভিজাত ও দুষ্প্রাপ্য ঘড়ি সংগ্রাহক হিসেবে ফুটবল বিশ্বে তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। সেই শখের তালিকায় এবার যুক্ত হলো নতুন এই টাইমপিস। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে যে, ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার নিউইয়র্কের বিশ্বখ্যাত জুয়েলারি ব্র্যান্ড জ্যাকব এন্ড কো.-এর ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে এই বিশেষ ঘড়িটি পছন্দ ও সংগ্রহ করেন।
নতুন এই ঘড়িটি সংগ্রহের সময় নেইমারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত জুয়েলারি কারিগর জ্যাকব আরাবো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রাজিলিয়ান তারকার সাথে কাটানো মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘আমার দীর্ঘদিনের পরম বন্ধু নেইমার বিশ্বকাপের মতো এত বড় মঞ্চে মাঠে নামার আগের ব্যস্ত সময়ের মাঝ থেকেও কিছুটা সময় বের করে নিউইয়র্কে আমাদের বুটিকে এসেছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে জ্যাকব এন্ড কো.-এর একটি ঘড়ি নিজের সংগ্রহে নিয়েছেন।’
দামি ও বিরল ঘড়ির প্রতি নেইমারের এই প্রবল আকর্ষণ অবশ্য নতুন কিছু নয়। হীরা খচিত নিখুঁত ট্যুরবিয়োঁ থেকে শুরু করে তার নিজের ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই কাস্টম ডিজাইনের একাধিক মূল্যবান ঘড়ি রয়েছে তার ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তার সংগ্রহে থাকা ঘড়িগুলোর মোট বাজারমূল্য ১৬ লাখ পাউন্ডেরও বেশি।
বিলাসবহুল এই সফরের ঠিক আগেই সেলেসাওদের জার্সিতে আবেগঘন এক প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল নেইমারের। ২০২৩ সালের শেষভাগে হাঁটুর ভয়াবহ চোটের কারণে দীর্ঘ ৯৮১ দিন জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল তাকে। অবশেষে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তার সেই দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার অবসান ঘটে।
সব ব্যক্তিগত শখ আর জল্পনা-কল্পনা শেষে নেইমারের পুরো মনোযোগ এখন শুধুই বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিতে। গ্রুপ 'সি' থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এবার নকআউটের মঞ্চে তাদের সামনে কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। দলে সুপার-সাব বা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমেও দলের খেলার গতি ও প্রাণ ফিরিয়ে আনা নেইমারকে ঘিরেই এখন হেক্সা তথা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন বুনছেন সেলেসাওদের অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি।