স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্বকাপের মেগা ম্যাচে মাঠে নামার আগেই কথার লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাজিল ও জাপানের মধ্যকার ফুটবল আবহ। জাপান শিবিরের পক্ষ থেকে নানামুখী উসকানিমূলক মন্তব্য করা হলেও, সেসব মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা ‘মাইন্ড গেম’-এ জড়াতে একেবারেই নারাজ ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। প্রতিপক্ষের এসব কথার ফাঁদে পা না দিয়ে ডন কার্লোর পুরো মনোযোগ এখন কেবলই মাঠের ফুটবলে।
বিতর্কের সূত্রপাত মূলত জাপানের ২১ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার কেন্তো শায়োগাইয়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। জার্মানির ক্লাব ভলফসবুর্গে খেলা এই তরুণ ফুটবলার পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে সরাসরি ‘পতিত দানব’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘ব্রাজিল একসময় অনেক ভালো দল ছিল। কিন্তু এখন আর তাদের সেই নামডাক শোনা যায় না। ফুটবলের পরাশক্তি বলতে মানুষ এখন ফ্রান্স আর আর্জেন্টিনাকেই বোঝে।’ অথচ মজার ব্যাপার হলো, এমন বড় মন্তব্য করা এই জাপানি তরুণ চলতি বিশ্বকাপে জাপানের খেলা তিন ম্যাচে সব মিলিয়ে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ৬ মিনিট!
তরুণ শিষ্যের সুরের সঙ্গে কিছুটা সুর মিলিয়ে ব্রাজিলকে আলতো চিমটি কাটতে ভুল করেননি জাপানের হেড কোচ হাজিমে মারিয়াসুও। তিনি মনে করেন, জাপানকে সহজে বধ করা ব্রাজিলের জন্য সম্ভব হবে না। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে মারিয়াসু বলেন, ‘গত বছরের অক্টোবরের প্রীতি ম্যাচেই আমরা প্রমাণ করেছি, আমরা সহজে বশ হওয়ার বা হার মেনে নেওয়ার মতো দল নই। আজকের নকআউট ম্যাচে ঠিক কী হতে যাচ্ছে, তা কেউ আগে থেকে জানে না। তবে আমাদের জয়ের দারুণ একটা সুযোগ আছে। ফুটবল বিশ্ব এখন জাপানকে ডার্ক হর্স বলছে এবং আমরা সেভাবেই মাঠে নিজেদের মেলে ধরব।’
নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো শক্তিশালী দলকে পেছনে ফেলে নিজেদের গ্রুপ থেকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে আসা জাপানিজদের এই সব কথাবার্তাকে মোটেও পাত্তা দিচ্ছেন না ব্রাজিল বস কার্লো আনচেলত্তি। হিউস্টনে ম্যাচের আগে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মাঠের বাইরের এসব আলোচনার উদ্দেশ্য শুধুই মাইন্ড গেম খেলা, যা তাঁর দলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। আনচেলত্তি বলেন, ‘অন্যরা আমাদের নিয়ে অনেক কথাই বলছে। আমি এখানে সেসব কথার পুনরাবৃত্তি করে সময় নষ্ট করতে চাই না। আমাদের পুরো মনোযোগ এখন মাঠের আসল খেলায় এবং প্রতিপক্ষের শক্তি-সামর্থ্যের ওপর। মাঠে যেন কোনো ধরনের ভুল বা সমস্যা এড়ানো যায়, আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা সেটিকে ঘিরেই। ম্যাচের আসল প্রস্তুতি বলতে আমি এটাই বুঝি। ইংল্যান্ডে একটা কথা প্রচলিত আছে না—মাইন্ড গেম? পর্তুগিজে আপনারা এটিকে কী বলেন? আমি আসলে এসব মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলতে চাই না, আমাদের কাজ মাঠে ফুটবল খেলা।’
তবে কার্লো আনচেলত্তি কিছুটা সুর নরম রাখলেও প্রতিপক্ষ জাপানের মন্তব্যে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেলেসাও অধিনায়ক মার্কুইনোস। পিএসজির এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মনে করেন, ব্রাজিলকে ‘ভালো দল না’ আখ্যা দিয়ে জাপান আসলে পরোক্ষভাবে সেলেসাওদেরই মাঠে ভালো করার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে। মার্কুইনোস বলেন, ‘তারা আমাদের এভাবে তাতানোর চেষ্টা করছে, এটা আমাদের জন্য উল্টো ভালো ব্যাপার। আমরা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। তারা যদি আমাদের ছোট করে নিজেদের মানসিক শান্তি পায়, তবে বলুক। তবে ব্রাজিলকে ভালো দল না বলাটা তাদের এক ধরণের উদ্ধত্যই প্রকাশ করে। আমরা মাঠের লড়াইয়েই এর জবাব দেব।’