স্পোর্টস ডেস্ক:
১৯৯৮ সালে ফুটবলের মহোৎসবে অভিষেকের পর এবার অষ্টমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। বিশ্বমঞ্চে এটি ব্লু সামুরাইদের টানা তৃতীয়বার নকআউট পর্বে খেলার রেকর্ড। এর আগে রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপে দারুণ খেলে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিলেও, কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা টপকাতে ব্যর্থ হয় তারা। বিশেষ করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৩ জন খেলোয়াড়ের পেনাল্টি মিসের চরম খেসারত দিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল জাপানকে। অতীতে করা সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি এবার কোনোভাবেই করতে চান না জাপানের হেড কোচ হাজিমে মারিয়াসু। ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পেনাল্টি শুটআউট নিয়ে বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তাঁর দল।
চলমান বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে নিজেদের গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে নকআউট বা শেষ ১৬-র টিকিট নিশ্চিত করেছে জাপান। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সেই কঠিন বাধা পেরোতে এবার এশিয়ান জায়ান্টদের মোকাবিলা করতে হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে জাপান। বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৯ জুন) রাত ১১টায় হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি শুরু হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে জাপানের কোচ হাজিমে মারিয়াসু দলের পরিকল্পনা ও পেনাল্টি শুটআউটের ভুল এড়ানোর কৌশল নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি জানান, ‘যদি আজকের নকআউট ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়, তবে গত বিশ্বকাপের মতো খেলোয়াড়দের নিজেদের ইচ্ছার ওপর পেনাল্টি শট নেওয়ার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হবে না। এবার কার পর কে শট নিতে পেনাল্টি স্পটে যাবে, সেই সিরিয়াল বা ক্রমটি কোচ হিসেবে আমি নিজেই আগে থেকে নির্ধারণ করে দেব।’ কোচের এমন সিদ্ধান্ত মূলত দলের ওপর চাপ কমাতে এবং পেনাল্টিতে শতভাগ সফল হতেই নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কার্লো আনচেলত্তির শক্তিশালী ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বড় চমক দিয়েছিল জাপান। এবার বিশ্বকাপের মূল ও বৈশ্বিক মঞ্চেও সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখছেন জাপানি কোচ। তিনি আরও বলেন, ‘ফিফা র্যাংকিং কিংবা ফুটবল শক্তিমত্তার বিচারে ব্রাজিল আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তারা বরাবরের মতোই টুর্নামেন্ট জয়ের অন্যতম হট ফেবারিট। অনেকেই হয়তো আজকের ম্যাচে আমাদের আন্ডারডগ বলবে এবং আমরা সেটা ভালো করেই মাথায় রেখে মাঠে নামব। তবে গত বছর যখন আমরা ওদের হারিয়েছিলাম, তখনও আমাদের ওপর কেউ বাজি ধরেনি। আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস আছে, আজ আমরা ইতিহাস বদলে দিতে পারব। পুরো বিশ্ব আজ আমাদের পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে আছে।’
ব্রাজিলকে যথেষ্ট সমীহ করলেও নিজেদের ফুটবলারদের সামর্থ্যের ওপর অটুট আস্থা রাখছেন হাজিমে মারিয়াসু। তার ভাষ্য, ‘আমরা ইতিমধ্যে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলেছি এবং ছেলেদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এটা আসলে আমাদের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই একটা অংশ। সত্যি বলতে, আসল বিশ্বকাপ তো নকআউট পর্ব বা এখান থেকেই শুরু হচ্ছে। দল এখন পর্যন্ত দারুণ ফুটবল খেলেছে, যদিও ম্যাচগুলো আমাদের জন্য বেশ কঠিন ছিল।’
তিনি ম্যাচের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও যোগ করেন, ‘সামনে আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন এক প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। এই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়তে হলে আমাদের নিজেদের সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে। একই সঙ্গে আমরা মাঠে আমাদের উন্নতির গ্রাফ ফুটিয়ে তুলতে চাই। ব্রাজিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে আমরা তাদের এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে কথা বলব না। মাঠের ৯০ বা ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে আমরা সেলেসাওদের সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’