বিশ্বকাপের মঞ্চে মহানাটকীয় এক দিন উপভোগ করল ফুটবল বিশ্ব। নকআউট পর্বের একই দিনে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল শিরোপার অন্যতম দুই দাবিদার জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। ফুটবল পরাশক্তিদের কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে লাতিন আমেরিকার লড়াকু দল প্যারাগুয়ে এবং আফ্রিকার সিংহ মরক্কো। অঘটনের এই রাত বিশ্বকাপের শিরোপার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
দিনের প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির মুখোমুখি হয়েছিল প্যারাগুয়ে। মাঠের লড়াইয়ে ফেভারিট জার্মানিকে এক চুলও ছাড় দেয়নি লাতিন দলটি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং এরপর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের তীব্র লড়াই শেষেও যখন ম্যাচটি ১-১ সমতায় স্তব্ধ ছিল, তখন ভাগ্য নির্ধারণে আশ্রয় নেওয়া হয় টাইব্রেকারের। স্নায়ুচাপের সেই পরীক্ষায় জার্মানিকে ৪-৩ ব্যবধানে স্তব্ধ করে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের উল্লাসে মাতে প্যারাগুয়ে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় এই জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা প্যারাগুয়ে। ঐতিহাসিক এই সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা পরদিন দেশজুড়ে সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করেছেন।
নাটকীয়তার পারদ আরও উঁচুতে চড়েছিল দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে। ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছিল মরক্কো। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো গোল করে দলকে এগিয়ে নিলে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে নেদারল্যান্ডস। কিন্তু মরক্কো যে দমে যাওয়ার পাত্র নয়, তা প্রমাণ হয় ম্যাচের যোগ করা সময়ে। ৯১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে মরক্কোকে ১-১ সমতায় ফেরান ইসা দিয়োপ। এরপর অতিরিক্ত সময়ে মরক্কো বারবার আক্রমণ চালালেও ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করে নেদারল্যান্ডসকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
১২০ মিনিটের খেলা সমতায় শেষ হলে এই ম্যাচটিও গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে চরম নাটকীয়তার দেখা মেলে। শুরুতে দুই দলের ফুটবলাররাই স্নায়ুচাপের কাছে হেরে সুযোগ নষ্ট করেন। ডাচ তারকা জাস্টিন ক্লাইভার্টের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং জুরিয়েন টিম্বার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন। অন্যদিকে মরক্কোর নিল আল আইনাউই ও আশরাফ হাকিমিও জালের দেখা পেতে ব্যর্থ হন। তবে এই চরম মুহূর্তে ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান মরক্কোর অতন্দ্র প্রহরী ও গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। তিনি ক্রাইভেন সামারভিলের নেওয়া পেনাল্টি শটটি রুখে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মরক্কোর হাতে এনে দেন। সবশেষে ইসমাইল সাইবারি নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে মরক্কোর রূপকথার জয় নিশ্চিত করেন। একদিনে দুই জায়ান্টের বিদায়ে টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর জন্য এখন বিশ্বজয়ের পথ আরও উন্মুক্ত হয়ে গেল।