বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফুটবল পরাশক্তি জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে। আর এই ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
প্রেসিডেন্টের বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন, যা ভুলবশত আদি বিজ্ঞপ্তিতে ১ জুলাই উল্লেখ ছিল) দেশটির সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই বিশেষ ছুটির আওতায় থাকবে। সোমবার রাতে এক বিশেষ পুশ বার্তার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরবর্তীতে এক সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় ফুটবল দলের এই অভাবনীয়, গৌরবোজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় সাফল্য যেন পুরো দেশবাসী একসঙ্গে আনন্দ ও উৎসবের সাথে উদযাপন করতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই এই বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হলো।
বিশ্বমঞ্চের এই হাইভোল্টেজ নকআউট ম্যাচে প্যারাগুয়েকে দিতে হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধের চরম পরীক্ষা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের তীব্র লড়াই শেষেও যখন ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় স্তব্ধ ছিল, তখন ভাগ্য নির্ধারণে আশ্রয় নেওয়া হয় পেনাল্টি শুটআউটের। সেখানে চরম স্নায়ুচাপ ধরে রেখে শক্তিশালী জার্মানিকে ৪-৩ ব্যবধানে স্তব্ধ করে দেয় প্যারাগুয়ে। রেফারি ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথেই পুরো প্যারাগুয়ের রাজপথে নেমে আসে লাখো ফুটবলপ্রেমী মানুষ। রাজধানীসহ দেশজুড়ে শুরু হয় এক বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাস।
প্রধান কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দারুণ ছন্দে রয়েছে প্যারাগুয়ে। তবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানিকে বিশ্বকাপ থেকে এভাবে ছিটকে দেওয়াটা ছিল চলতি আসরের সবচেয়ে বড় চমক ও অঘটন। ফুটবল বিশ্লেষকরা এই ঐতিহাসিক জয়কে প্যারাগুয়ের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও গৌরবময় মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে আইনি ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ তিনটি বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণার সাংবিধানিক এখতিয়ার রয়েছে। ফুটবলারদের এই অবিশ্বাস্য ও রূপকথার কীর্তিকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাতেই নিজের সেই আইনি ও সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এই জাতীয় ছুটি ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।