হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে তখন মুহূর্মুহু ‘নেইমার, নেইমার’ চিৎকারে কাঁপছিল চারপাশ। সমর্থকদের এমন উন্মাদনা দেখে ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা নেইমার নিজেও সাইডলাইনের পাশে গা গরম (ওয়ার্ম আপ) করতে শুরু করেন। গ্যালারিতে বসা হাজারো ভক্ত তখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, হয়তো একটু পরেই প্রিয় তারকাকে মাঠে নামাবেন সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে ভক্তদের সেই গুঞ্জনকে পাশ কাটিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ ও শতভাগ ফিট থাকা সত্ত্বেও নেইমারকে মাঠে নামানোর কোনো প্রয়োজনই মনে করলেন না এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। বরং কৌশলী চাল হিসেবে নেইমারের পরিবর্তে তিনি মাঠে নামিয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে। আর কোচের এই সাহসী বদলি খেলোয়াড়ের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যোগ করা সময়ে এই গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির চমৎকার গোলেই অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন রূপকথা লেখে ব্রাজিল। এশিয়ান পরাশক্তি জাপানকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়ে সেলেসাওরা মেতে ওঠে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট পাওয়ার উল্লাসে। তবে ম্যাচজুড়ে নেইমার পুরোপুরি ফিট থাকার পরেও তাকে কেন বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হলো, তা নিয়ে ব্রাজিলের কোটি ভক্তের মনে তৈরি হয়েছিল তুমুল বিস্ময় ও প্রশ্ন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই কৌতূহল ও রহস্যের জট খোলেন কার্লো আনচেলত্তি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমার ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনায় নেইমারকে খেলানোর কথা ছিল, তবে সেটি অতিরিক্ত সময়ে। আমি তাকে এক্সট্রা টাইমের কঠিন লড়াইয়ের জন্য বাঁচিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু আমাদের ছেলেরা নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও ইনজুরি টাইমের মধ্যেই ম্যাচটি জিতে নেওয়ায় তাকে আর মাঠে নামানোর দরকার পড়েনি।"
আনচেলত্তি আরও যোগ করেন, নকআউট পর্বের এই মরণ-বাঁচন ম্যাচে অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টি শুটআউটের (টাইব্রেকার) চরম সম্ভাবনা মাথায় রেখেই তিনি মূল দল ও রণকৌশল সাজিয়েছিলেন। আর সেই স্নায়ুচাপের মুহূর্তে নেইমারের মতো একজন অতি অভিজ্ঞ ও ঠান্ডা মাথার ফুটবলারকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল তার। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের ভয়াবহ চোট কাটিয়ে এই বিশ্বকাপ দিয়েই দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে নেইমারের। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি ফুটবলার হিসেবে মাঠে নেমে প্রায় ১৫ মিনিট খেলেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। আর সেই অল্প সময়ের মধ্যেই দলের জন্য তিনটি নিখুঁত গোলের সুযোগ তৈরি করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি। কোচ আনচেলত্তি আশ্বাস দিয়েছেন, নেইমার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ ফিট এবং পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে সেলেসাওদের জয়ে তার ভূমিকা আরও বৃদ্ধি পাবে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়তে হতে পারে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে।