বিশ্বকাপের মঞ্চে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে চিরচেনা ব্রাজিলকে যেন খুঁজেই পাওয়া যায়নি। মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহাদের একের পর এক আক্রমণ কেবলই হতাশার জন্ম দিচ্ছিল। উল্টো এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের জমাট রক্ষণ ভেদ করতে গিয়ে উল্টো গোল হজম করে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল সেলেসাওরা। তবে বিরতির পর ড্রেসিংরুম থেকে ফিরেই যেন সম্পূর্ণ নতুন রূপে আবির্ভূত হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের চরম ব্যর্থতা ও ভোগান্তি ভুলে দ্বিতীয়ভাগে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে এই মহাগুরুত্বপূর্ণ জয়ের নেপথ্যে থাকা দুর্দান্ত রণকৌশল ও ড্রেসিংরুমের গোপন বার্তার কথা সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করলেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচের শুরু থেকেই সোজাসুজি ও প্রথাগত আক্রমণে উঠে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল ব্রাজিল। এই পরিস্থিতি দেখে দ্বিতীয় হাফে নিজেদের পুরো খেলার ধরনই বদলে ফেলেন আনচেলত্তি। মাঠের মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করার পরিবর্তে উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে অনবরত ক্রস বাড়ানোর দিকে বিশেষ মনোযোগ দেয় সেলেসাওরা। আর কোচের এই কৌশলী পরিবর্তনই এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল মাগালাইসের নিখুঁত এক ক্রস থেকেই দুর্দান্ত হেডে ব্রাজিলের সমতাসূচক প্রথম গোলটি করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতাকে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স আখ্যা দিয়ে আনচেলত্তি বলেন, "নিশ্চিতভাবেই এটি বিশ্বকাপে আমাদের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও পরিপক্ব পারফরম্যান্স ছিল। প্রথমার্ধে জাপান আমাদের কোনো ফাঁকা জায়গা দেয়নি, যার ফলে আমাদের বেশ ভুগতে হয়েছে। তবে দ্বিতীয়ভাগে আমরা সেই বাধা ভেঙে উইং দিয়ে ক্রস বাড়াতে শুরু করি, যা আমাদের কৌশলের এক মস্ত বড় উন্নতি।"
ড্রেসিংরুমে বিরতির সময় ফুটবলারদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে কী টোটকা দিয়েছিলেন, তাও অকপটে স্বীকার করলেন এই সফল কোচ। আনচেলত্তি বলেন, "আমি ছেলেদের প্রথমার্ধের ভুল ভুলে গিয়ে মাঠে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কারণ আমি মনে মনে নিশ্চিত ছিলাম যে গোল আমরা পাবই, শুধু নিজেদের পজিশন ধরে রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই নতুন করে আর কোনো গোল হজম করা যাবে না।" প্রতিপক্ষ জাপানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, "জাপান দল হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী, সুসংগঠিত এবং তাদের রক্ষণভাগও ছিল ভীষণ জমাট।" জাপানের বিপক্ষে এই কঠিন অগ্নিপরীক্ষা সাফল্যের সাথে পার করে এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামবে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যেখানে শেষ আটে ওঠার মরণ-বাঁচন ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়তে হবে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে।