ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

এমবাপ্পের রেকর্ড জোড়া গোলে সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ১৬-তে ফ্রান্স


  • আপলোড সময় : বুধবার ০১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৩৯ এএম

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শুরুতেই নিজেদের বিধ্বংসী রূপ দেখাল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে সুইডেনকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে অনায়াসে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। ফরাসিদের এই দাপুটে জয়ের মূল নায়ক অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি ম্যাচে দুর্দান্ত জোড়া গোল করেছেন। এই দুই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড গড়ার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির আরও কাছে পৌঁছে গেছেন এই ফরাসি তারকা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফরাসিদের হাতে। বলের দখল, আক্রমণের গতি আর সুযোগ তৈরি—সবকিছুতেই সুইডিশদের চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল তারা। প্রথমার্ধে সুইডেনের মাত্র ৩টি শটের বিপরীতে ফ্রান্স শট নিয়েছিল ১৫টি। ম্যাচের শুরুটা ফরাসি শিবিরের জন্য ছিল বেশ আবেগের। মায়ের মৃত্যুর কারণে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন না কোচ দিদিয়ের দেশম। আজ তিনি ডাগআউটে ফিরতেই প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) উসমান দেম্বেলের সঙ্গে দারুণ এক পাসিং কম্বিনেশন থেকে সুইডিশ ডিফেন্ডার ভিক্টর ইয়োকেরেসকে বোকা বানিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে। গোল করার পরপরই মাঠের সব উদ্‌যাপন ভুলে এমবাপ্পে ছুটে যান ডাগআউটের দিকে এবং জড়িয়ে ধরেন শোকাতুর প্রিয় গুরুকে।

বিরতির পর ফরাসিদের আক্রমণ আরও শানিত হয়, যার মূল কারিগর ছিলেন উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে। নিজে গোল না পেলেও আজ ফ্রান্সের তিনটি গোলের পেছনেই অ্যাসিস্ট বা সহায়তাকারী ছিলেন তিনি। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এরপর ৭৪ মিনিটে আবারও ওলিসে-এমবাপ্পে জুটির ঝলক দেখা যায়। ওলিসের রক্ষণচেরা পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে।


এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮। পাশাপাশি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর গোলসংখ্যা বেড়ে হয় ১০, যা বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ। এই রেকর্ডে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও ও লিওনিদাসকে (উভয়ের ৮ গোল)। একই সঙ্গে ২৯ ম্যাচ খেলা লিওনেল মেসির (১৯ গোল) চেয়ে তিনি এখন মাত্র ১ গোল পিছিয়ে আছেন।

নিউ জার্সির প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র গরম আর আর্দ্রতার মাঝে সুইডেনের আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস ও অ্যান্থনি এলাঙ্গাদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ ফরাসি রক্ষণকে তেমন কোনো পরীক্ষাতেই ফেলতে পারেনি। উল্টো সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না করলে সুইডেনের হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্যের পর নকআউটেও এমন দাপুটে সূচনা করে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শেষ ১৬-র ম্যাচে ফরাসিদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর