ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

নরওয়ের জয়ের নৌকা ভাসছে ভাইকিং ছন্দে


  • আপলোড সময় : বুধবার ০১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৫১ এএম

প্রথমে ড্রামটা বাজল ধিমে তালে। তারপর ক্রমান্বয়ে জোরেশোরে, আরও জোরে। নকআউটের স্নায়ুচাপের ম্যাচ শেষে মাঠের চারধারে তখন জয়ের বাঁধভাঙা উল্লাস। একে অপরকে জড়িয়ে ধরা, করমর্দন কিংবা গ্যালারির দিকে হাত নাড়ানো—বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন চেনা উদযাপনের সবটুকুই সেরেছে নরওয়ে দল। তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি তখনও বাকি ছিল।

অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড কাঁধে ড্রাম নিয়ে এগিয়ে আসতেই পুরো দল এক জায়গায় জড়ো হলো। আর্লিং হালান্ড সবার আগে এগিয়ে এলেন, পেছনে আন্তনিও নুসা আর আলেক্সান্দার সরলথরা। এরপর সবাই মাঠের সবুজ ঘাসে সারিবদ্ধ হয়ে বসে পড়লেন—শুরু হলো তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ বা প্রতীকী নৌকা বাওয়ার উৎসব। ওডেগার্ডের ইশারায় গ্যালারি যখন শান্ত, তখন হালান্ড দুই হাত নেড়ে চারপাশের দর্শকদেরও প্রস্তুত হতে বললেন। ওডেগার্ডের ড্রামের প্রথম আঘাতের সাথে সাথে সামনে-পেছনে দুলে উঠল ফুটবলারদের শরীর। হাত দিয়ে বৈঠা বাওয়ার সেই চেনা দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল পুরো মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ড্রামের গতি বাড়ার সাথে সাথে বাড়ল নৌকা বাওয়ার গতিও। যেন কোনো অদৃশ্য ভাইকিং যুদ্ধজাহাজ উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে।

চলতি বিশ্বকাপে নরওয়ের আগের দুই জয়েও এই বিখ্যাত উদযাপন দেখা গেছে। তবে ডালাস স্টেডিয়ামে আইভরিকোস্টের বিপক্ষের আজকের ‘ভাইকিং রো’ ছিল একেবারেই অনন্য। কারণ, এবার তাদের সেই নৌকা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের বৈতরণী পার হয়েছে। আইভরিকোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে ঐতিহাসিক জয় পেল নরওয়ে। আর এই মহাকাব্যিক জয় তাদের তুলে দিয়েছে শেষ ১৬-র মঞ্চে, যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ৫ জুলাইয়ের সেই মহারণে কী হবে তা সময়ই বলবে, তবে আপাতত নরওয়ের নৌকা চলছে ভাইকিং রোর গর্জন মিলিয়েই।

গ্রুপ পর্বে ইরাককে ৪-১ এবং সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে আগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছিল ইউরোপের এই দলটি। শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে হারলেও তা যে সাময়িক ছন্দপতন ছিল, আজ আইভরিকোস্টের বিপক্ষে মাঠে নেমেই তা প্রমাণ করলেন হালান্ড-ওডেগার্ডরা। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে নরওয়েকে প্রথম লিড এনে দেন মাত্র ২১ বছর ৭৪ দিন বয়সী তরুণ উইঙ্গার আন্তনিও নুসা। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নরওয়ের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার নতুন রেকর্ড গড়লেন তিনি।

নুসার এই গোলের পেছনে ছিল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের এক জাদুকরী রক্ষণচেরা পাস। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে ওডেগার্ডও নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর নিজের খেলা প্রথম তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই অ্যাসিস্ট করা ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ফুটবলার এখন তিনি। এর আগে এই বিরল কীর্তি ছিল কেবল সোভিয়েত ইউনিয়নের ইগর বেলানভ (১৯৮৬) এবং জার্মানির মাইকেল বালাকের (২০০২)। ওডেগার্ড বরাবরই আড়ালে থেকে সতীর্থদের গোল বানাতে পছন্দ করেন, আর গোলমুখের সব আলো কেড়ে নেন ২৫ বছর বয়সী গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। প্রথমার্ধে মাত্র আটবার বলের ছোঁয়া পাওয়া হালান্ড দ্বিতীয় অর্ধের শেষ দিকে এসে আর ভুল করেননি। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের চমৎকার পাস থেকে গোল করে নরওয়ের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন তিনি। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই চার ম্যাচে ৫ গোল করে ফেললেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

এই ম্যাচটি যেন বর্তমান নরওয়ে ফুটবল দলের সামগ্রিক ঐক্যের এক প্রতীকী ছবি। কখনো নুসা, কখনো ওডেগার্ড, কখনো বার্গ, আবার কখনো হালান্ড—দলের একজন থমকে গেলে অন্যজন হাল ধরছেন। হালান্ডদের পূর্বপুরুষ ভাইকিংদের সমুদ্রযাত্রার মূল উদ্দেশ্যই ছিল অজানাকে জয় করা। শতাব্দী পেরিয়ে সেই আদিম ঐতিহ্যের ছায়াই এখন নরওয়ে দলের শক্তি। সামনে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকলেও, ভাইকিংদের এই অপ্রতিরোধ্য নৌকা সহজে থামানো যাবে না, তা বলাই বাহুল্য।


এ সম্পর্কিত আরো খবর