ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

ব্রাজিলের সাম্বা ফুটবলের নীরব সুরকার ব্রুনো গুইমারেস


  • আপলোড সময় : বুধবার ০১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:০২ এএম

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই যেন এক চিরচেনা আলোর রোশনাই। যেখানে সবটুকু আলো কেড়ে নেন ফরোয়ার্ডদের নিখুঁত গোল, উইঙ্গারদের চোখ ধাঁধানো গতি আর গোলদাতাদের বাঁধভাঙা উল্লাস। উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বমঞ্চেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ম্যাথুয়েস কুনহা কিংবা নেইমারদের নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে তুমুল উন্মাদনা। কিন্তু ফুটবল শুধু গোল করার গল্প নয়; মাঠের আড়ালে বসে যিনি পুরো দলের সুর বেঁধে দেন, তিনিই ম্যাচের আসল পরিচালক। সেলেসাওদের মাঝমাঠের তেমনই এক অদৃশ্য সেনাপতি ব্রুনো গুইমারেস, যিনি আলো থেকে দূরে থেকেও দলের জয়ের মূল চাবিকাঠি।

ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই ২৮ বছর বয়সি মিডফিল্ড জেনারেল চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার বলা হয়। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি ছিল ব্রাজিলের মাঝমাঠের এক অভেদ্য দেয়াল। সবশেষ নকআউট রাউন্ডে জাপানের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও দলের ত্রাতা হয়ে হাজির হন তিনি। খেলা যখন ১-১ সমতায় থমকে ছিল এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর শঙ্কা জাগছিল, ঠিক তখনই প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিকে এক চমৎকার পাস বাড়ান ব্রুনো। আর সেই পাস থেকে গোল করে ব্রাজিলের শেষ ১৬-র টিকিট নিশ্চিত করেন মার্টিনেল্লি।

বল পায়ে ব্রুনো গুইমারেস যেন এক দক্ষ সুরকার। ম্যাচের গতি কখন বাড়াতে হবে আর কখন শান্ত করতে হবে—সবই তাঁর নখদর্পণে। প্রতিপক্ষের তীব্র চাপের মুখেও তাঁর শরীরী ভাষায় কোনো তাড়াহুড়ো থাকে না। নিখুঁত ছোট পাস, ট্যাকল আর দুর্দান্ত পজিশনিংয়ের কারণে তিনি হয়ে উঠেছেন সেলেসাওদের হৃদস্পন্দন। আধুনিক ফুটবলে রক্ষণে বল কেড়ে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে আক্রমণে ওঠার মতো দক্ষ 'বক্স-টু-বক্স' মিডফিল্ডারের গুরুত্ব অনেক, আর ব্রুনো ঠিক সেই দায়িত্বটিই পালন করছেন নিপুণভাবে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তিনি রেকর্ড ১২.১ কিলোমিটার পথ দৌড়েছেন, যা তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিবেদনের প্রমাণ দেয়।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রুনোর এমন চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সের পর দলবদলের বাজারেও তাঁকে নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাব আর্সেনাল তাঁকে দলে ভেড়াতে ইতিমধ্যেই ৫৫ মিলিয়ন ইউরোর বড় প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে নিউক্যাসল ইউনাইটেড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ব্রাজিলিয়ান তারকা কোনোভাবেই বিক্রির জন্য নন।

মাঠের বাইরের এসব আলোচনা অবশ্য স্পর্শ করছে না ব্রুনোকে। তাঁর সম্পূর্ণ মনোযোগ এখন ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের দিকে। নিজের ভূমিকা নিয়ে ব্রুনো বলেন, “মিডফিল্ডাররা ভালো খেললে পুরো দলই ছন্দ পায়। আমাদের মূল দায়িত্ব হলো ভিনিসিয়ুস, কুনহা কিংবা নেইমারদের জন্য খেলাটা সহজ করে দেওয়া। আমরা হয়তো গোল করব না, কিন্তু এমন পরিস্থিতি তৈরি করব যাতে ফরোয়ার্ডরা তাদের সেরাটা দিতে পারে।” এবারের বিশ্বকাপে সাম্বার দেশের আক্রমণভাগ যতই মুগ্ধতা ছড়াক না কেন, ফুটবলপ্রেমীরা মনে রাখবেন—ব্রাজিলের এই নান্দনিক ফুটবল ছন্দের আসল প্রাণ লুকিয়ে আছে ব্রুনো গুইমারেসের পায়েই।


এ সম্পর্কিত আরো খবর