ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বিদায়ের পর ‘দ্বিতীয় দল’ মেক্সিকোকে সমর্থন ইরানের


  • আপলোড সময় : বুধবার ০১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:২২ এএম

চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘দুর্ভাগা’ দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ইরানকে। টুর্নামেন্টের মূল ম্যাচগুলোর ভেন্যু যুক্তরাষ্ট্রে হলেও ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে শেষ মুহূর্তে তাদের বেসক্যাম্প বা মূল ঘাঁটি পরিবর্তন করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসন থেকে শেষ মুহূর্তে তাদের বিশ্বকাপ ঘাঁটি সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নিয়ে যেতে বাধ্য হয় ইরান। মাঠের খেলায় দুর্ভাগ্য এবং মাঠের বাইরে নানান প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। তবে নির্বাসিত এই সময়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানার নাগরিকরা যেভাবে ইরানি ফুটবল দলকে আতিথেয়তা ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তেহরান।

তিজুয়ানার মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার জবাবে ইরান ফুটবল দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেক্সিকো এখন থেকে তাদের কাছে কেবল একটি প্রতিবেশী দেশ নয়, বরং তাদের ‘দ্বিতীয় বাড়ি এবং দ্বিতীয় দল’। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া মেক্সিকোর প্রতি টুর্নামেন্টের বাকি সময়জুড়ে তাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। আগামীকাল সকালেই শেষ ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে মেক্সিকো।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছিল ইরানি ফুটবল দলের ওপরও। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মেক্সিকোতে ঘাঁটি গাড়তে বাধ্য হওয়া ইরানি দলকে প্রথমে ম্যাচের মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসন এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করে এবং সিয়াটলে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচের দুদিন আগে ভ্রমণের অনুমতি দেয়। তবে ম্যাচ শেষ হওয়া মাত্রই পুরো দলটিকে আবারও মেক্সিকোর সেই ঘাঁটিতেই ফিরে যেতে হয়েছিল।

ইরান দলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে প্রকাশিত একটি আবেগঘন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রকৃত আতিথেয়তা মানে হলো সম্মান, মানবিকতা এবং মর্যাদা। আমরা তিজুয়ানার মানুষের এই উদারতা ও ভালোবাসা কখনোই ভুলব না। আজ থেকে মেক্সিকো আমাদের কাছে সবসময় একটি সাধারণ আয়োজক দেশের চেয়েও অনেক বেশি কিছু; এটি হবে আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি এবং আমাদের দ্বিতীয় দল।” এর আগে টুর্নামেন্টের শুরুতে সোফাই স্টেডিয়ামের লকার রুমেও লস অ্যাঞ্জেলেস কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি রেখে এসেছিল ইরানি দল।

তবে মাঠের আতিথেয়তার প্রশংসা করলেও দলের প্রধান কোচ আমির ঘালিনোই এবং অধিনায়ক মেহেদি তারেমি দুজনেই টুর্নামেন্ট চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মতো ইরানের সাথে সমান আচরণ করা হয়নি এবং লজিস্টিক সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয়নি। দলটির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ফিফা বা মার্কিন কর্তৃপক্ষের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইরান ফুটবল দল জানায়, “আমরা অত্যন্ত গর্বের সাথে এই বিশ্বকাপ ছেড়ে যাচ্ছি, তবে একটি মৌলিক প্রশ্নও রেখে যাচ্ছি—বিশ্বকাপের প্রতিটি দল কি সত্যিই সমান পরিস্থিতি এবং সমান পেশাদার মানদণ্ডের অধীনে খেলার সুযোগ পেয়েছিল?”

লজিস্টিক ঝামেলার পাশাপাশি মাঠের ভাগ্যও সহায় ছিল না ইরানের। মিসরের বিরুদ্ধে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে ইনজুরি টাইমে করা একটি নিশ্চিত গোল অত্যন্ত সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। অথচ সেই গোলটি বহাল থাকলে আজ তারা শেষ ৩২-এর মঞ্চে খেলতে পারত। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমাদের কাছে ফেয়ার প্লে কোনো বিজ্ঞাপনী বোর্ডের সস্তা স্লোগান নয়; এটি ফুটবলের মূল পরিচয়। তবে এই টুর্নামেন্ট আমাদের মনে করিয়ে দিলো যে, মুখে বলা অনুপ্রেরণামূলক বার্তা ও মাঠের অর্থপূর্ণ পদক্ষেপের মধ্যে এখনও অনেক বড় ব্যবধান রয়েছে।” বিদায়বেলায় প্রতিপক্ষ মিসরের প্রশংসার পাশাপাশি ইরান উল্লেখ করেছে, “বিশ্বকাপের আসর শেষ হয়ে যায়, কর্মকর্তারাও বদলে যান। কিন্তু ইরান, মিসর এবং মেক্সিকোর মতো প্রাচীন সভ্যতা—যা সত্য, সম্মান এবং মানবিক মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তা ইতিহাসের পাতায় চিরকাল অম্লান থাকবে।”


এ সম্পর্কিত আরো খবর