১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে চলতি বিশ্বকাপে ফিরেই একের পর এক চমক দেখিয়ে চলেছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের কাছে একমাত্র হারটি ছাড়া মাঠের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি দাপট ধরে রেখেছে ভাইকিংরা। সবশেষ শেষ ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে দলটি। বিশ্বকাপে নরওয়ের এমন অভূতপূর্ব সাফল্য উদযাপনে মেতে উঠেছে দেশটির মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো। আগামী ৫ জুলাই ব্রাজিলের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচটিকে তারা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে প্রধান ও গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
১৯৯৮ সালের ফ্রন্ট বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল নরওয়ে। সেই ঐতিহাসিক জয়কে স্মরণ করে নরওয়ের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল এনআরকে (NRK) জানিয়েছে, আসন্ন ম্যাচটি হতে যাচ্ছে নরওয়েজিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বিখ্যাত সেই ম্যাচের এক রোমাঞ্চকর পুনরাবৃত্তি। নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে সেই জয়টিকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে ‘মিরাকেল ইন মার্সেই’ বা মার্সেইয়ের অলৌকিক ঘটনা বলা হয়ে থাকে। চ্যানেলের একজন ফুটবল ধারাভাষ্যকার মন্তব্য করেছেন, দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এই দুই দলের আসন্ন লড়াইয়ের চেয়ে ‘বড় কিছু আর হতেই পারে না’। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে এই ম্যাচে ব্রাজিলই স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে, তবে ভালো একটি দিনে যেকোনো প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য নরওয়ের রয়েছে।
দেশটির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ভিজি (VG) তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম এবার নরওয়েজিয়ান ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি আয়োজন করতে যাচ্ছে। তারা লিখেছে, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের একটি নকআউট ম্যাচে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও সেরা দলটির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নরওয়ে।’
এদিকে নরওয়ে ও ব্রাজিলের মধ্যকার পুরোনো দ্বৈরথের পরিসংখ্যান নতুন করে ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিয়েছে দেশটির আরেক নামকরা গণমাধ্যম ডাগব্লাডেট (Dagbladet)। তারা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, বিশ্বফুটবলে নরওয়েই একমাত্র দল যাদেরকে আজ পর্যন্ত কখনো হারাতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এখন পর্যন্ত দুই দলের চারবারের দেখায় দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, আর বাকি দুটিতে জয়োৎসব করেছে নরওয়ে। প্রকাশনাটি আরও যোগ করেছে, ‘ব্রাজিলিয়ানরা দীর্ঘ বেশ কিছুদিন ধরেই এই হতাশাজনক পরিসংখ্যানের বৃত্ত থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে নরওয়ে এখন প্লে-অফের এই বাধা টপকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের প্রথম স্থানটি নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’