পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারে ব্যাপক পুলিশি অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (১ জুলাই) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরের ১০২ নম্বর সড়কের ৪৪ নম্বর প্লটে ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো: আলী হোসেন ফকির এ কথা জানান।
আইজিপি জানান, পূর্বাচলের নিরাপত্তা কাঠামো সুসংহত করতে ৪টি থানা, ৬টি তদন্ত কেন্দ্র, ২টি পুলিশ লাইনস, ৩টি ডিসি অফিস এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দ্রুত সম্প্রসারণশীল এই নতুন শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মো: আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, পূর্বাচলে আইনশৃঙ্খলা জোরদারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অনুকূলে ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দের মধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একরের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে পূর্বাচলকে ডিএমপির আওতাভুক্ত করা হবে। এর অংশ হিসেবে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি পৃথক বিভাগ গঠন এবং প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।
আইজিপি আশা প্রকাশ করেন, এই পরিকল্পিত পুলিশি অবকাঠামো গড়ে উঠলে এলাকায় অপরাধ দমন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত সেবা প্রদানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এই নতুন শহরের টেকসই নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন নগরী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্মাণাধীন পশি পুলিশ ক্যাম্পের কার্যক্রমও চালু করা হবে। রাজধানী ঢাকার পুলিশি সেবার পরিধি পূর্বাচল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পিত নগরায়ন বাস্তবায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আকাশজমিন/ আরআর